নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া চেকপোষ্টের মেসার্স হোসেন ফিলিং ষ্টশনে সোমবার রাতে দুই খুচরা ব্যবসায়ীকে ডিজেল ও কেরোসিন তেল পরিমাপে কম দেয়ায় ক্ষতি পূরণের দাবীতে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ফিলিং ষ্টেশনটি ৪ঘন্টা অবরুদ্ধ করেছে। ৯৬৫ লিটার ডিজেল ও কেরোসিন তেল পুনঃ পরিমাপ করে ২৫ লিটার কম হওয়ায় অবস্থা বেগতিক দেখে ওই ফিলিং ষ্টেশনের ম্যানেজার ও কর্মচারীগন গাঢাকা দেয়।

পরে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশীদ ফিলিং ষ্টেশনের মালিকের সাথে আগামীকল্য থানায় বসে দুই ব্যবসায়ীকে ক্ষতি পূরণের আশ্বস্ত করায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিশোরগঞ্জ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শামীম হোসেন ও হারুন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন যাবত ওই ফিলিং ষ্টেশন থেকে ডিজেল ও কেরাসিন তেল নিয়ে খুচরা বিক্রি করায় লোকসান গুনছে।

আগের দিন তেল নিয়ে এসে দোকানে পরিমাপ করে প্রতি ড্রামে ৪ থেকে৭ লিটার তেল কম দেয়ার বিষয়টি ফিলিং ষ্টেশনের মালিককে অবগত করলে তিনি আমলে নেয়নি। একারণে প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার সন্ধায় তেল নেয়ার পরে শামীম ষ্টোরের জিলানী ও হারুণ ষ্টোরের মতিউর রহমান পুনঃ পরিমাপের চ্যালেঞ্জ জানায়। এতে সামীম ষ্টোরের ২৩৮লিটার ডিজেল পুনঃ পরিমাপ করে ২৩৪ লিটার ও ২৪৪লিটার কেরোসিন ২৩৭ লিটার হয়।

এদিকে হরুন ষ্টোরের ২৪৬ লিটার ডিজেল পুনঃ পরিমাপ করে ২৩৯ লিটার ও ২৩৭ লিটার কেরাসিন ২৩০লিটার হয়। দুই ব্যবসায়ীর ৪৮৪লিটার ডিজেলের মধ্যে ১১লিটার ও ৪৮১ লিটার কেরোসিন তেলের মধ্যে ১৪লিটার কম দেয়। ৯৬৫ লিটার ডিজেল ও কেরোসি তেল পুনঃ পরিমাপ করে ২৫ লিটার কম দেয়ার বিষয়টি প্রামানিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলকাবাসি রাত ৮টা থেকে ১৮টা পর্যন্ত ফিলিং ষ্টেশনটি অবরুদ্ধ করে রাখে।

ওই ফিলিং ষ্টেশনের কর্মচারী ও ম্যানেজার আবদুল হান্নান জানায় মালিক যেভাবে মেশিন সেটআপ দিয়েছেন সেভাবে তেল পরিমাপ হয় আমাদের দোষ কোথায়? একথা বলার একপর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করলে অবস্থা বেগতিক দেখে ম্যানেজার গাঢাকা দেয়। এ ব্যাপারে মেসার্স হোসেন ফিলিং ষ্টেশনের মালিক আলমগীর হোসেন বাবু পুনঃ পরিমাপে তেল কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যেটুকু কম হয়েছে তা পূরণ করে দিব এবং পরিমাপ মেশিন ঠিক করব, কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত এলাকাবসিকে পরিমাপে কমদিয়েছেন তা পূরণ করে দিবেন কিভাবে, এর কোন সদুত্তোর মেলেনি। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য