সুবল রায়, বিরল থেকেঃ পর্যাপ্ত রেল ইঞ্জিনের অভাবে দিনাজপুরের বিরল রেলবন্দর দিয়ে ভারত ও নেপালের সঙ্গে আমদানী-রপতানী কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা, ধ্বস নামছে রাজস্ব আয়ে। আমদানী পণ্য বোঝাই রেলগাড়ী দিনের পর দিন ভারতীয় রেল ষ্টেশন রাধীকাপুর-এ পরে থাকছে, রেল ইঞ্জিনের অভাবে সেই মালামাল বঝাই ওয়াগণ বাংলাদেশের বিরল রেলবন্দরে এসে পৌচাতে পারছেনা। ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন বিরল রেলবন্দরে এসে দিন গুনছে কবে তাদের মালামাল বাংলাদেশে এসে পৌছাবে।

গত ৮এপ্রিল শনিবার দুপুরে দিল্লী থেকে দিনাজপুরের বিরল ও ভারতের রাধীকাপুর রেলবন্দর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাণিজ্যিক রুট যৌথভাবে উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে রেল পথে সরকারী ভাবে ভারতের রাধীকাপুর এবং বাংলাদেশের বিরল রেল ষ্টেশনের মধ্যে সরাসরি আমদানী রপ্তানী নতুন গতি লাভ করে। কিন্তু আমদানী ও রপ্তানী কার্যক্রম রেল ইঞ্জিনের অভাবে বাধা প্রাপ্ত হয়। দেশে রেল ইঞ্জিনের সংকট থাকায় সময় মতো রেল ইঞ্জিন বরাদ্দ পাওয়া যায়না।

আমদানী রপ্তানী কারক ব্যবসায়ীরা জানান, এই পথে ভারত নেপাল ভুটান ও সিকিমসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের মালামাল প্রেরণ করতে ও ঐসব দেশের মালামাল বাংলাদেশে আমদানী করতে ব্যায় কম হওয়ায় ও এ পথে অন্যান্ন সুযোগ সুবিধা বেশী থাকায় তারা বিরল রেলবন্দরকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কিন্তু রেল ইঞ্জিনের কারণে সময় মতো ব্যবসার মালামাল আনা নেওয়া করতে পারেনা। তারা এ বিষয়ে অতিরিক্ত রেল ইঞ্জিন বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেন ব্যবসায়ীরা।

বিরল রেলষ্টেশন মাষ্টার মাসুদ পাভেজ জানান, এই পথে আমদানী রপ্তানীর জন্য রেল ইঞ্জিন একটি সমস্যা। ৪২টি ওয়াগান ভর্তি মালামাল ভারত থেকে রেল পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে সরকার রাজস্ব হিসেবে পায় ১৫ লক্ষাধীক টাকা। যত বেশী মালামাল নিয়ে রেল গাড়ী বাংলাদেশে প্রবেশ করবে তত বেশী সরকারের বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব আয়।

বিরল রেলবন্দরে অনেক আমদানী-রপ্তানী কারক রয়েছেন। কিন্ত এখানে মুল সমস্যা রয়েছে রেল ইঞ্জিনের। সারা মাসে ২ থেকে ৩টি মাল বোঝাই রেল গাড়ী বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যদি প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে পণ্যবোঝাই রেল গাড়ী বাংলাদেশে প্রবেশ করতো তাহলে বাংলাদেশের রাজস্ব আয় প্রচুর বৃদ্ধি পেতো।

বিরল রেলবন্দর দিয়ে তেল, পাথর ও খাদ্য শষ্য আমদানী ছাড়াও বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানী করা হয়ে থাকে। এতে প্রচুর পরিমান রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা থাকে বলে জানান, বিভাগীয় রেল কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম।

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার পর পর বিরল রেলবন্দর দিয়ে আমদানী-রপ্তানী শুরু হয়। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় এই পথে আমদানী-রপ্তানী বন্ধ হয়ে যায়। তারপর আবারো চালু হয়। দেশের স্বার্থে বিদেশ থেকে রেলইঞ্জিন আমদানী করা প্রয়োজন। অন্যথায় আমাদের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে টান পরবে। বাধা গ্রস্থ হবে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। বিষয়টি রেলের উর্দ্বতন কর্মকর্তা, কাষ্টমস ও আমদানী-রপ্তানী কর্তৃপক্ষ যৌথ ভাবে ভেবে দেখবেন এমনটি প্রত্যাশা দেশবাসীর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য