দিনে ১৫টা সিগারেট পান কিংবা অতিরিক্ত স্থূলতার চাইতেও ক্ষতিকর একটি বিষয় হল নিঃসঙ্গতা। তবে এই বিষয় নিয়ে খুব একটা আলোচনা করা হয় না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর প্রযুক্তিনির্ভরে এই যুগে আতœীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই আছেন মোবাইল ফোন। আর এই ঘিঞ্জি শহরে ঘরের জানালা খুললেই পাশের বাড়ির মানুষ কী করছে দেখা যায়।

এতকিছুর পরও মানুষ আজকাল অনেক বেশি একা। কারণ চারপাশে এত পরিচিত থাকলেও পরস্পরের সঙ্গে আলাপচারিচা আটকে গেছে সামান্য কুশল বিনিময় আর লাইক কমেন্টে।

এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর জনস্বাস্থ্য সেবার সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ভিভেক এইচ মার্থির মতে, “এই নিঃসঙ্গতার প্রভাব গিয়ে পড়ছে মানুষের আয়ু এবং কর্মক্ষমতার উপর।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের অসংখ্য কর্মী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের অর্ধেকই নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিঃসঙ্গ অনুভব করেন। নিজেদের জীবনে ঘনিষ্ঠ কেউ আছে এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত কমতে থাকে। এই নিঃসঙ্গতার সঙ্গে কিন্তু একাকিত্বের তফাৎ রয়েছে।”

“চারপাশে যথেষ্ট মানুষ থাকার পরও মানুষ নিঃসঙ্গ, কারণ তাদের মধ্যে প্রকৃত সামাজিক সম্পর্কের অভাব।”

তো নিঃসঙ্গতা কেনো বিপজ্জনক?
উত্তরে মার্থি বলেন, “বিগত কয়েক হাজার বছরে মানুষের মস্তিষ্ক থেকে সামাজিক সম্পর্কের মূল্যবোধ বিলিন হয়ে গেছে অনেকটাই। এই শক্তিশালী রক্ষাকারী শক্তির অভাবে ক্রমেই সেখানে বাসা বেঁধেছে ভয়াবহ এক মানসিক অস্বস্তি। দীর্ঘমেয়াদে এই অস্বস্তি শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক এক হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে, বাড়িয়েছে শারীরিক উত্তেজনাও। হৃদরোগ, ডায়বেটিস, হাড়ের জোড়ের বিভিন্ন সমস্যা, হতাশা, স্থূলতা, এমনকি অকাল মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির পেছনে এদের দায় অস্বীকার করার উপায় নেই।”

এত গেল শারীরিক সমস্যার কথা, এবার আসা যাক মানসিক সমস্যাগুলোর দিকে।
“নিঃসঙ্গতার মানসিক অস্বস্তি মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়া, পরিকল্পনা করা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, যুক্তি খ-নের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মানসিক অস্বস্তিতে ভোগা একজন কর্মী কিংবা কর্মকর্তা নিজের পুরো দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে না, ভোগেন সিদ্ধান্তহীনতায়, কমে যায় তার সৃজনশীলতা।”
ছবি: রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য