সংবাদ সম্মেলনঃ বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ এনে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনয়ন করেছে উপজেলার ১১ ইউপি চেয়ারম্যান ও একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব রংপুর বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে প্রেরন করেন তারা।

শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অনাস্থা প্রস্তাবের ৭টি কারণ উল্লেখ করা হয়। এগুলো হলো- উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম অবৈধভাবে পরিষদে কিছু লোকজনকে নিয়ে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালকে অশ্লীল, অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ ও সরকারী উন্নয়নমূলক কাজে জনগনকে সহযোগিতা না করার জন্য সভা করেন, ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী হেলালকে মোবাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং হত্যার হুমকি প্রদান, উপজেলা চেয়ারম্যান আইন পরিপন্থিভাবে ভিজিএফ এবং ভিজিডি কার্ডের নিজ পছন্দের নামের তালিকা প্রস্তুত করে চেয়ারম্যানদেরকে বিতরণ করতে বাধ্য করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে উগ্র, উদ্ভট ও স্বেচ্ছাচারী আচরনে পরিষদের সকল সদস্য আত্মমর্যাদার হানি করেন।

এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ২০১৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে জঘন্য ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন ও মর্যাদা ক্ষুন্ন করেন। এর আগে উপজেলা চেয়ারম্যানের আইন বর্হিভুত কাজে সহযোগিতা না করায় আব্দুর রহমান নামে এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শাররীকভাবে লাঞ্চিত করে এবং আহত করেন। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। এবং তিনি একজন প্রকৌশলীর নিকট চাঁদা না পেয়ে শাররীকভাবে তাঁকে নির্যাতন করেছেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার অবৈধ্য কার্যকলাপের কোন প্রমান/সাক্ষী না রাখার জন্য সরকার নিযুক্ত তাঁর গাড়ীর ড্রাইভারকে গাড়ী চালাতে না দিয়ে চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে নিযুক্ত ড্রাইভারকে দিয়ে সার্বক্ষনিকভাবে গাড়ীটি চালান। কিন্তু ড্রাইভারকে বেতন ভাতাদী কৌশলে পরিষদের অর্থ থেকে প্রদান করেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ব্যতিরেকে গাড়িটি ঢাকাসহ জেলার বাইরে নিজ কাজের জন্য ব্যবহার করেন আমিনুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মলনে বলা হয়, বীরগঞ্জ উপজেলা ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। তারা সকলেই পদাধিকার বলে উপজেলা পরিষদের সদস্য। এছাড়াও একজন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, একজন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ৪নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য অর্থাৎ মোট ১৯ জন নির্বাচিত সদস্য নিয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ গঠিত। তবে পদত্যাগজণিত কারনে এই উপজেলা পরিষদে ৪টি পদ শুন্য রয়েছে। বর্তমানে এই উপজেলা পরিষদ ১৫ সদস্য নিয়ে গঠিত। এদের মধ্যে ১২ জন সদস্য নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে এই অনাস্থা প্রস্তাবের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বীরগঞ্জ উপজেলার ১নং শিবরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনক চন্দ্র অধিকারী, ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কেএম কুতুব উদ্দিন, ৪নং পাল্টাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তছলিমুল আলম, ৫নং সুজালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহেশ চন্দ্র রায়, ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকার, ৭নং মাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দেব শর্মা, ৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান পান্না, ৯নং সাতোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, ১০নং মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিদুল হক ও ১১ নং মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম ওই আসনের সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য