মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এতে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়েছে। তবে এসব বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৮৯টি। এর মধ্যে ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। বুধবার সরেজমিনে উপজেলার বহড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দস্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারি শিক্ষকই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানান বহড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীরেন্দ্র নাথ রায়। তিনি বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৮জন। আর সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে চারটি ও প্রধান শিক্ষকের একটি। “কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট সহকারি শিক্ষকের সংখ্যা তিনজন।” তিনি আরও জানান, তিনজনের মধ্য থেকে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এখন দুই সহকারি শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। এতে বিষয়ভিত্তিক পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে।

দস্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই হলো মূল চালিকা শক্তি। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। বেশ কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব তাদের কাছে বাড়তি বোঝা। তাদেরকে দাপ্তরিক কাজ ও পাঠদান একসঙ্গে চালাতে হয়।

তাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতি সপ্তাহে দাপ্তরিক প্রয়োজনে উপজেলা পর্যায়ে সভায় যোগ দিতে ছোটাছুটি করতে হয়। অথচ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারিভাবে কোনও পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, “চার বছর থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যায় পড়তে হয় তবে শূন্য পদ পূরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য