ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণায় দ্রুততার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। তবে এ ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে পাশে পাননি ট্রাম্প। নিরাপত্তা পরিষদের আরেক প্রভাবশালী দেশ রাশিয়াও বরাবরের মতো এ ইস্যুতে ইরানের পক্ষ নিয়েছে। ইউরোপ ও রাশিয়ার নেতারা বলছেন, ঐতিহাসিক এ চুক্তির ব্যাপারে তাদের সমর্থন অটুট রয়েছে। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ইরান চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখো। বিবৃতিতে তিন নেতা বলেন, আমরা আশা করি ইরানের পরমাণু চুক্তির ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া, চুক্তি অনুযায়ী দেশটির ওপর থেকে প্রত্যাহার করা নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করার আগে মার্কিন প্রশাসন এবং দেশটির কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের নিরাপত্তায় এর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি। তিনি বলেন, ইরান চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। কোনও একটি দেশ এককভাবে এটা থামিয়ে দিতে পারে না।

ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেন, এটি কোনও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নয়। এটা কোনও একক দেশের বিষয় নয়…। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক ক্ষমতা রয়েছে; কিন্তু সেটা এখানে প্রযোজ্য নয়।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে হুমকি ধমকি এবং আক্রমণাত্মক বাগাড়ম্বরের কোনও স্থান নেই। এ ধরনের পন্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এটা সভ্য দেশগুলোর মধ্যকার চুক্তির আধুনিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে আসার ট্রাম্পের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল। জার্মান সংবাদপত্র আরএনডি’কে তিনি বলেছেন, এ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের চীন ও রাশিয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল ও সৌদি আরব।

এর আগে শুক্রবার ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান চুক্তি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না। কিন্তু চুক্তির সুবিধা ভোগ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছিলেন, ইরান পারমাণবিক চুক্তি অনুসরণ করছে। তবে ট্রাম্প তাদের সঙ্গে একমত নন।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আগেও আমি অনেকবার বলেছি, ইরান চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ও একপাক্ষিক চুক্তি। এই চুক্তির লক্ষ্য কী? শুধু ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনকে বিলম্বিত করা? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার কাছে তা অগ্রহণযোগ্য। যে কোনও সময় চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য