সিরিয়ার ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নিয়ন্ত্রিত শহর রাক্কায় অনেকগুলো বাস প্রবেশ করায় সেখানে যুদ্ধ প্রায় ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে বলে ধারণা করছেন দেশটির সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীরা।

শুক্রবার দিবাগত রাতভর তারা অনেকগুলো বাসকে আইএসের রাজধানী বলে কথিত শহরটিতে প্রবেশ করতে দেখেছেন বলে শনিবার জানিয়েছেন।

‘নীরবে নিহত হচ্ছে রাক্কা’ নামের আন্দোলনকারীদের একটি গোষ্ঠী তাদের ফেইসবুক পেইজে জানায়, কেন বাসগুলো সেখানে তা তাদের জানা নেই, তবে তারা ‘গত রাতে রাক্কার উত্তরের গ্রামাঞ্চল থেকে বাসগুলোকে রাক্কা শহরের দিকে যেতে’ দেখেছেন।

ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে কোনো যুদ্ধ কবলিত এলাকায় বাস আগমণের ঘটনায় ‘লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া শুরু হবে’ এমনটিই ইঙ্গিত করে।

রাক্কায় নিজেদের শেষ অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের (এসডিএফ) ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল আইএসের জঙ্গিরা। কুর্দি ও আরব বেসামরিক বাহিনীগুলোর জোট এসডিএফ ওই এলাকা থেকে আইএস জঙ্গিদের হটিয়ে দেওয়ার একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এসডিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

অগাস্টে লেবানন-সিরিয়ার সীমান্ত এলাকার অবরুদ্ধ আইএস যোদ্ধারা ওই এলাকা ছেড়ে সরে যেতে রাজি হওয়ার পর বাসযোগে তাদের অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সিরিয়ায় নিজেদের নিয়ন্ত্রিত কোনো এলাকা ছেড়ে যেতে ওই প্রথম প্রকাশ্যে রাজি হয়েছিল গোষ্ঠীটির জঙ্গিরা।

আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর দিকে এসডিএফভুক্ত বাহিনীগুলো এগিয়ে যাওয়ার সময় ওইসব এলাকার বেসামরিক লোকজন বিপদসঙ্কুল পথে এলাকা ছেড়ে যাওয়া শুরু করেছিল। লড়াইয়ের এলাকাগুলো থেকে তাদের সরিয়ে নিতে তারা যানবাহন দিয়ে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে এসডিএফ।

২০১৪ সালে আইএস জঙ্গিরা রাক্কা দখল করে নিয়েছিল। তারপর থেকে শহরটিকে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল গোষ্ঠীটি।

জুনে শহরটির ওপর এসডিএফের চূড়ান্ত অভিযানের প্রাক্কালে ‘অভিযান শেষ করতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ লাগবে’ বলে দাবি করেছিলেন এসডিএফ কর্মকর্তারা।কিন্তু বাস্তবে অভিযানে তাদের ধারণা চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে এবং তা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য