স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে কাতালুনিয়ায় মাদ্রিদের শাসন চাপিয়ে দেওয়ার যে হুমকি স্পেন সরকার দিয়েছে তা উপেক্ষা করে পুরোমাত্রায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট কার্লোস পুজদেমনের ওপর চাপ বাড়ছে।

শুক্রবার কট্টর বামপন্থি দল সিইউপি মাদ্রিদের দেওয়া সময়সীমা প্রত্যাখ্যান করতে পুজদেমনর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, ১৩৫ আসনের কাতালান পার্লামেন্টে সিইউপির দখলে মাত্র ১০টি আসন; তারপরও বিভিন্ন আইন প্রণয়নে পুজদেমনকে তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়। সিইউপির সমর্থন ছাড়া পার্লামেন্টে পুজদেমনের সংখ্যালঘু দলের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে ৯০ শতাংশ রায় পাওয়ার পর এ নিয়ে বসা পার্লামেন্ট অধিবেশনে মঙ্গলবার ভাষণ দেন পুজদেমন। ভাষণে কাতালান আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট স্বাধীনতার পক্ষে একটি ‘প্রতীকি ঘোষণা’ দেন এবং পরে মাদ্রিদের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে ওই ঘোষণার কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আহ্বান জানান।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয় কাতালানদের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে কি না তা পরিষ্কার করতে আঞ্চলিক সরকারকে ৮ দিনের সময় দেন এবং ‘স্পেন থেকে বিচ্ছিন্ন’ হওয়ার চেষ্টা করলে কাতালুনিয়ার ওপর মাদ্রিদের সরাসরি শাসন চাপিয়ে দেয়ার হুমকি দেন।

পুজদেমন ও তার সঙ্গীরা এখন রাখয়ের হুমকির জবাবে কাজ করছেন বলে কাতালান আঞ্চলিক সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। যদিও পুজদেমন কোন পথে হাঁটতে চাইছেন তা বলতে রাজি হননি তিনি।

এর মধ্যেই শুক্রবার সিইউপি পুজদেমনকে মাদ্রিদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা উপেক্ষা করে স্বাধীনতার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

“যদি (মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকার) আমাদের ধারাবাহিকভাবে হুমকি দিতে ও কণ্ঠরোধ করতে চায়, তাহলে ইতোমধ্যেই যে প্রজাতন্ত্রের দাবি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধেই তাদের সেগুলো করা উচিত,” বলেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার রাতে স্বাধীনতাপন্থি প্রভাবশালী নাগরিক গোষ্ঠী এসেম্বলি ন্যাশনাল কাতালানার দেওয়া বিবৃতিতেও ছিল একই সুর।

“আলোচনার ব্যাপারে স্পেন সরকারের অবস্থান যেহেতু নেতিবাচক, তাই আমরা আঞ্চলিক পার্লামেন্টকে স্থগিতাদেশ উঠিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারি (স্বাধীনতার ঘোষণা কার্যকরের ব্যাপারে),” বলেছে গোষ্ঠীটি।

তবে পুজদেমনের দলের নেতা আতুর মাসের মত ভিন্ন।

“একটি রাষ্ট্র যদি স্বাধীনতা ঘোষণা করেও সে অনুযায়ী কাজ না করতে পারে, তাহলে সেই স্বাধীনতা কেবল আনুষ্ঠানিকতাই হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাইরের শক্তিগুলোর অবস্থানও বিচার করতে হবে,” টেলিভিশন টিভি থ্রিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেন ২০১৬ পর্যন্ত আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট থাকা মাস।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বিশ্বশক্তিগুলো শুরু থেকেই কাতালানদের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে আসছে।

লুক্মেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া ভাষণে ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লদ জাঙ্কার বলেন, কাতালানদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিলে ইউরোপের অন্যান্য অংশেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

“এটি আমাদের বিষয় নয়, তারপরও যদি আমরা কাতালুনিয়াকে বিচ্ছিন্ন হতে দিই, তাহলে অন্যরাও সেরকমটা চাইতে পারে,” বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য