চেয়ারম্যানকে ঘায়েল করতে সংরক্ষিত সদস্যের হয়রানির প্রতিবাদে বিরল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকালে বিরল প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূক্তভোগী ৪ নং শহরগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মুরাদ। এসময় তাঁর সাথে ১ নং ওয়ার্ড সদস্য হাফিজ, ২ নং ওয়ার্ড সদস্য রঞ্জন, ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য আনিছুর, ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য আফজাল, ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য সাইদুর, ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য মোশারফ, ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য সুরেন্দ্রনাথ, ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য মোজাহার, ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য তোফাজ্জল হোসেন তোফা, ১,২,৩ নং ওয়ার্ড সদস্য নাছিমা আকতার, ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড সদস্য বেলী বেগম উপস্থিত ছিলেন।

৪ নং শহরগ্রাম ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মুরাদ বলেন, আমার ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আখি বেগম পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমাকে এবং আমার ভাইদেরকে সমাজে হ্যায় প্রতিপন্ন করা ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির জন্য একের পর এক চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৫ মে/১৭ তারিখ রাত আনুমানিক ৮ টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়ে আমার বড় ভাই আশরাফুল আলমকে রামনগরের স্থানীয় সেন্ড, রবিউল, রতনসহ কতিপয় ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে রামনগরে আখি বেগমের বাড়ীতে তুলে নিয়ে যায় এবং ৫লাখ টাকা দাবী করে।

আখি বেগম আশরাফুলকে বলে, তুমি আমাকে ভালবাস এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে তুমি ৫লাখ টাকা না দিলে তোমাকে ছেড়ে দেয়া হবে না। আমার ভাই আমাকে সংবাদ দিতে বললে আখি বেগম ও তাঁর মা লাইজু আকতার আমার ভাইকে ফাঁকা কাগজে স্বাক্ষর করতে বললে সে স্বাক্ষর না করায় তাকে বেদম মারপিট করে। একপর্যায়ে আমার ভাই অসূস্থ্য হয়ে পড়লে অবস্থা বেগতিক দেখে আখি বেগম ও তার মা আমার ভাইকে তাদের বাড়ী থেকে পালানোর সুযোগ করে দিলে আমার ভাই সেখান থেকে লালবাগ কবরস্থানে পালিয়ে গিয়ে বাঁচে। পরে আখি বেগমের মা লাইজু আকতার আমাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য বলে।

আমার ভাইয়ের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় খুর, ডেগারের দাগ দেখতে পাই। আখি বেগমের মা লাইজু আকতার বিষয়টি নিয়ে আপোষের জন্য প্রস্তাব দিলে ফাঁকা জায়গা দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় মাঠে বসার জন্য রাজি হলে সেখানে এ্যাড. সূধীর চন্দ্র শীলের উপস্থিতিতে সেখানে বসা হয়। সেখানে মা ও মেয়ে অটো যোগে এসে অসূস্থ্যতার কথা বলে মেয়েকে রেখে এক পর্যায়ে মেয়েকে রেখে মা চলে যায়। পরে আমি কোতয়ালী থানার ওসি সাহেবকে ফোন দিলে তিনি তৃতীয় কোন পক্ষের মাধ্যমে আখি বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বললে আমি রামনগর ক্লাবের সভাপতি মুন্নাসহ তাঁকে কোতয়ালী থানায় নিয়ে যাই।

সেখানে ৩ ঘন্টা থাকার পরও সে কি খাইছে তা না বলায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করাই। পরবর্তীতে মা ও মেয়ে পরস্পর যোগসাজসে আমার ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ঘটনা সাজিয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। কোন ধর্ষক কোনদিন ধর্ষিতাকে থানা ও হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারে বলে আমার জানা নাই, আপনারা তদন্ত করে দেখলে তা পরিস্কার হবে। এরপর ৮ অক্টোবর/১৭ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদে কৃষি কমিটির সভা শেষে আখি বেগম আমার অনুমতি ছাড়া আমার বিশ্রামকক্ষে প্রবেশ করলে তাঁকে আমি বের হয়ে যেতে বলি।

এ সময় অন্যান্য ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকলেও পরবর্তীতে তাঁর মা লাইজু বেগম পরিষদে উপস্থিত হয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে নানা রকমের হুমকি প্রদান করে। আখি বেগমকে আমি মারধর করেছি এমন মিথ্যা কথা রটিয়ে তাঁরা মা ও মেয়ে আমাকে হয়রানি করার জন্য আবারো মিথ্যা, বানোয়াট চক্রান্ত শুরু করেছে। আমি সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আখি বেগম ও তাঁর মা লাইজু আকতারের হীন কর্মকান্ডের সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার এবং হয়রানি ও মিথ্যা, বানোয়াট মামলা থেকে অব্যাহতির দাবী জানাচ্ছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য