কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ কাহারোলে ফরিদা খাতুন ওরফে কৈতরী বেওয়ার ভাগ্যে আজও জুটেনি বিধবা, বয়স্ক ভাতা সহ সরকারী সহযোগিতা। তাই তার জীবন চলছে অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে। আর কত বয়স হলে পাবে বয়স্ক ভাতা। এ প্রশ্ন এখন তার মুখে মুখে।

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৩নং মুকুন্দপুর ইউনিয়নের উচিৎপুর গ্রাম (উপজেলা পরিষদ রোড-কৃষি ব্যাংকের সামনে) সরকারী বাসভবন বসবাসের অনুপযোগী পরিত্যাক্তা ভবনে জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করছেন বয়স্ক ও বিধবা ভাতা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত মোছাঃ ফরিদা খাতুন ওরফে কৈতরী বেওয়া (৫৫)।

তিনি ১১ অক্টোবর’১৭ দুপুর ৩ টার সময় তার বসবাস অনুপযোগী পরিত্যাক্তা বাসভবনে এই প্রতিনিধি কে জানান, তার জন্ম স্থান ফরিদপুর জেলার ভাংঙ্গা উপজেলায়। তার স্বামীর নাম মৃত মোস্তফা, মাতার নাম-মৃতঃ ফেলী খাতুন ভোটার আইডি কার্ডে উল্লেখ রয়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় তার স্বামীকে খানেরা প্রকাশ্যে আমার এবং আমার ২ মেয়ের সামনে মেরে ফেলে। সেই দিন থেকে আমি ফরিদপুর থেকে পালিয়ে এসে কাহারোল উপজেলায় ভিক্ষা করতে থাকি এবং আমার ২ মেয়ের খোঁজ-খবর আজও পাওয়া যায়নি, তারা কোথায় আছে, কেমন আছে, তা আমি নিজেও জানি না।

আমি এখন এই জরাজ্বীর্ণ বসবাসের অনুপযোগী সরকারী বাসভবনে জীবনের ঝুকি নিয়ে কোন মতেই বেঁচে আছি আপনাদের দোয়ায়। এখানে ২টি গরু ছাড়া আমার আর কোন সয়-সম্বল নেই। সে আরও জানায়, গত ৬ মাস পূর্বে তার অতি কষ্টে পালিত ১টি বাছুর চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায় এবং মাঝে মধ্যে এই গরু দু’টিও চোরেরা চুরি করার জন্য কয়েকবার এই বাসায় আসে। কিন্তু আমি সারা রাত জেগে থাকার ফলে চুরি করতে পারে না চোরেরা।

অবহেলিত ও সরকারী সকল প্রকার সুবিধা বঞ্চিত মোছাঃ ফরিদা খাতুন ওরফে কৈতরী বেওয়া জীবন অধ্যাহারে, অনাহারে কাটছে তা দেখার কেউ নেই। তার ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ লিখা আছে ৫ মার্চ ১৯৬২ ইং। কিন্তু তিনি জানান ভুলবশতঃ আমার বয়স কম দেখানো হয়েছে। এব্যাপারে তার প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার জন্য সরকারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ফরিদা খাতুন ওরফে কৈতরী বেওয়া।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য