কাউনিয়া রেল ষ্টেশন গো’চারন ভূমিতে পরিনত হয়েছে। পাকিস্তান আমলে নির্মিত কাউনিয়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনটিতে জনবল সংকট, কালবাজারে টিকেট বিক্রয়, গন শৌচাগারের অভাব, টোপলাটানা ও মলম পাটির উপদ্রপ, রেল লাইনের বেহাল অবস্থা, ১শ বছরের পুরাতন সিগনালিং ব্যবস্থা, ভুয়া টিসির দৌরত্ব থাকা সত্বেও চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ স্টেশন থেকে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ৬শ’ ৭৩ টাকা আয় হলেও স্টেশনটিতে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেরও আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি।

সরেজমিনে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে পাকিস্তান আমলে নির্মিত ষ্টেশনের চালের টিন বিভিন্ন জায়গায় ফুটা হয়ে এবং ছাঁদ চুয়ে বৃষ্টির পানিতে যাত্রীদের যেমন ভিজতে হয় তেমনি স্টেশনের মূল্যবান কাগজপত্র নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। গন শৌচাগার না থাকায় মহিলা যাত্রীদের বিড়ম্বনার শেষ নাই। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই সেখানে। রেল লাইন গুলোতে বড় বড় ঘাস জন্মায়, গরু ছাগল অবাধে বিচরন ক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে। একটি ১ম শ্রেণীর ওয়েটিং রুম থাকলেও কোন আয়া নেই সেখানে।

পরবর্তীতে ২য় শ্রেনীর একটি ওয়েটিং রুম তৈরী করা হলেও পরিস্কার পরিচ্ছনতার অভাবে তা ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। ২ জন সুইপার কাগজে কলমে থাকলেও আছে মাত্র ১ জন তাকেও কাজে দেখা যায় না। খাবার পানির জন্য দুই টি টিউবয়েল থাকলেও অধিকাংশ সময় থাকে নষ্ট। মুসাফির খানা হকারদের দখলে। এ স্টেশনের জন্য একটি রেলওয়ে মেডিকেল থাকলেও তা আনেক আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে ট্রেনে কাঁটা রোগি ও রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কালোবাজারে রংপুর এক্সপ্রেসসহ আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট বিক্রয়ের অভিযোগ অধিকাংশ যাত্রী সাধারনের। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য জিআরপি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী থাকলেও তারা শুধু চোরাচালানের টোপলা খোঁজা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এ স্টেশনে টিসি না থাকায় ভুয়া টিসি সেজে এলাকার কতিপয় যুবক রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। বখাটে ছেলেদের উপদ্রপ নিত্যদিনের, বিশেষ করে আন্তঃ নগর ট্রেনের সময় এদের উৎপাত বেশী লক্ষ্য করা যায়। অধিকাংশ ট্রেনে টিটিই থাকে না।

এ ব্যাপারে ষ্টেশন মাষ্টার আঃ রশিদ জানান, এ ষ্টেশনে ৩৮ জন ষ্টাফ এর বিপরীতে আছে মাত্র ২৩ জন। ৬ জন স্টেশন মাষ্টরের বিপরিতে আছে ৩জন, বুকিং ক্লার্ক ৩ জনের স্থলে আছে ৩ জন,টিসি ৩ জনের স্থলে একজনও নেই, পাওয়ারম্যান ৭ জনের স্থলে আছে ৫ জন, সালটিং জামাদার ২ জনের স্থলে আছে ১জন, পোটার ৪ জনের স্থলে আছে ৩জন, এসি ম্যান ৬জনের স্থলে আছে ২জন, গেট ম্যান ৩ জনের স্থলে অস্থায়ী ভাবে আছে ৩জন, বিদ্যুৎ লাইন ম্যান ২জনের স্থলে একজনও নেই। মোট ২৮টি ট্রেন যাতাযত করে এ স্টেশনের উপর দিয়ে। এর মধ্যে আন্তঃ নগর ৮টি, মেইল ৬টি, লোকাল ৪টি, কমিউটার ৪টি, ডেমু ২টি, সাটাল ২টি।

আন্তঃ নগর রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন এ দীর্ঘ দিন থেকে ১টি বগি নেই ট্রেনটিতে কাগজে কলমে সিট বরাদ্দ ৪৬ টি, কিন্তু বগি না থাকায় একটি বগিতে মাত্র ২০টি সিট বরাদ্দ আছে। ১ম শ্রেনীর ৪টি সিট বরাদ্দ, কিন্তু তিন জেলার মানুষ এ স্টেশন থেকে যাতায়াত করার ফলে টিকেটের চাহিদা থাকে সব সময়। স্টেশন মাস্টার জানান যাত্রী সাধারনের সেবার মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্টেশনের সীমানা প্রাচীর, গন শৌচাগার নির্মান, চাহিদা অনুযায়ী টিকেট বরাদ্দ, আধুনিক সিগনালিং ব্যবস্থা চালু,পাওয়ার হাউস স্থাপনের ব্যবস্থা করা। ইতোমধ্যে কিছু উন্নয়নের কাজ হয়েছে।

স্টেশনের সকল সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান হয়েছে। টিকেটের সংখ্যা না বাড়ালে কালবাজারে টিকেট বিক্রয় বন্ধ হবে না। রেল ভ্রমনকারী যাত্রী সাধারনের দাবী দ্রুত ষ্টেশনের সকল সমস্যার সমাধান করে কাউনিয়া ষ্টেশন কে একটি আধুনিক মডেল স্টেশনে পরিনত করার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য