মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাংগী উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছে স্কুল ছাত্রীরা, পনেরো দিনে ৩ জন স্কুল ছাত্রী সাহসী ভুমিকা রেখে নিজের বাল্য বিয়ে বান্ধ করেছে। এরা হলেন দুওসুও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী তসলিমা ও হালিমা এবং মাছখুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সানজু আক্তার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হেল্প লাইন ১০৯ মোবাইল করে সাহসী হয়ে নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকালো। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে স্কুলের শিক্ষর্থীরা সাহসী ভূমিকা ও দৃষ্টান্ত স্থাপন রেখেছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে বালিয়াডাংগী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের কার্তিকা পাড়া গ্রামের সমশের আলীর নাবালিকা কন্যা ও মাছখুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সানজু আক্তার বাল্য বিয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হেল্প লাইন ১০৯ মোবাইল করে নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকালো । সানজু আক্তারকে তার পরিবার বিয়ে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত বুধবার বরের পক্ষের লোকজন সানজু কে দেখাতে আসে। সবার পছন্দ হয়। সানজু আক্তার কোন মতে বিয়েতে বসবে না।

সে লেখাপড়া করে নিজে সাবলম্বী দাড়াঁতে চাই। বিয়েতে সম্মতি না থাকায় হেল্পলাইন নাম্বারে ফোন দেয়। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় থেকে সমাজসেবা অফিসেকে ফোন দেয়। সমাজসেবা অফিসার বালিয়াডাংগী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ আঃ মান্নান বিষয়টি অবহিত করলে পাড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান আহসান হাবীব বুলবুলকে জানান। সমাজ সেবা অফিসার ও পাড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান আহসান হাবীব বুলবুল, ইউপি সদস্য সহ সানজুর বাড়ীতে হাজির হয়। বাল্য বিবাহ দেওয়া যাবেনা এ বিষয়ে বাবা মাকে বুঝানো হয়। সানজুর পিতার নিকট বাল্য দিবেনা এইমর্মে অঙ্গিকার নামা নেওয়া হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও বিদ্যালী পাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের কন্যা তসলিমা আক্তার (১৪ ) সে দুওসুও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী , রোল নম্বর ১, জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে তসলিমা নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়েছে ।

তসলিমার পথ অনুসরন করে গত ২২ সেপ্টেম্বর ঐ স্কুলের আরেক নবম শ্রেণির ছাত্রী , রোল ৩, জিয়াখোর গ্রামের হারুন অর রশীদের মেয়ে হালিমা আকাতর হানি (১৪ ) কে তারঁ বাবা মা বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করে। এবিয়েতে হালিমা রাজি নাথাকায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ আঃ মান্নান মোবাইল নাম্বারে বাল্য বিবাহ বিষয়টি এসএম এস মাধ্যমে জানাই। ইউএনও হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। আর বাল্য বিবাহ দিবেনা এই মর্মে ইউএনও নিকট মুচলেকা দেন ।

স্কুলের শিক্ষাথীরা বাল্য বিবাহ হলে কুফল সম্পর্কে জীবন দক্ষতা প্রশিক্ষন নিয়ে নিজের বাল্য বিয়ে নিজে ঠেকানো শুরু করেছে। বালিয়াডাংগী উপজেলায় বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। অভিভাবক গণ সচেতন না হওয়ার কারনে প্রতি বছর প্রয় দু শতাধিক বাল্য বিবাহ হতো। এদের স্কুলগ্রামী পঞ্চম শ্রেণির হতে নবম শ্রেণির ছাত্রীর সংখ্যায় বেশী। লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঝড়ে পড়তো।

বালিয়াডাংগী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে যে ভাবে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে স্বল্প সময়ের মধ্যে বালিয়াডাংগী উপজেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য