বাবা মোর জইন্যে এখান বয়স্ক ভাতা আর নাল কাড নিয়া দেও বাবা। মুই চইলবের পাওনা। ভিক্ষা করি পেটের ভাত যোগাং, তাও মোর কোনো ভাতা দেয় নাই নেম্বর-চেয়ারম্যান। মুই কী খায়া বাচং? কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকায় নদী ভাঙ্গনের সংবাদ সংগ্রহ করেতে গিয়ে এমনই আকুতি মিনতি করে আহাজারি করেন বিধবা বছিরন। ৯ নং ওয়ার্ডের বড়বাড়ী এলাকায় রাস্তার ধারেই খাসের জমিতে কোনোমতে মাথা গুঁজে দিন যাপন করে সে।

প্রায় ৮মাস আগে না ফেরার দেশে চলে যায় স্বামী খেজমত আলী। তিনিও অচল ছিলো বলে জানায় বছিরন। বর্তমানে ৭০ ছাড়িয়ে গেছে বছিরনের বয়স। বয়সের ভারে চলাফেরাও কঠিন। বাত ব্যাথায় জর্জরিত সারা শরীর। তবুও পেটের দায়ে প্রতিদিন দুমুঠো খাবারের খোঁজে একটা পোটলা নিয়ে লাঠিতে ভর করে বের হতে হয় এ পাড়া ও পাড়া। হাঁটতে হাঁটতে ব্যথা হয় গিড়ায় গিড়ায়। দিন শেষে নিস্তেজ হয়ে যায় সারা শরীর।

বছিরন জানায়, সারদিন ঘুরে দের থেকে দুই কেজি চাল ওঠে তার। সেটা দিয়েই কোনোমতে বিপর্যস্ত জীবন চালায়। কোনো বেলা না খেয়েই থাকতে হয়। এখানকার মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে কিছু চাইলে দালালদের খপ্পরে পরতে হয়। টাকা ছাড়া কোনা কার্ড দেয় না। এ নিয়ে অনেক ক্ষোভ তার মনে। শুধু এবারের বন্যার সময় আরডিআরএস এর ত্রাণ হিসেবে খিচুরি ছাড়া কিছুই পায়নি সে। অনেক সচ্ছল ব্যক্তি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ, ভিজিডি, লাল কার্ডসহ অন্যান্য ভাতা পেলেও বছিরনের ভাগ্যে মেলেনি একটি ভাতাও।

মেম্বার চেয়ারম্যানরা তাদের নিজস্ব লোকদের দায়িত্ব দেয়ায় প্রকৃত গরিব দুঃখীরা এসব ভাতা থেকে বঞ্চিত বলেও অভিযোগ করেন এলাকার অনেকে। বছিরন বেওয়া আরো জানায়, তার দুই ছেলের বড় ছেলে নবাব (৩৮) কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ এলাকায় বিয়ে করে সেখানেই রিকশা চালায়। বউ বাচ্চা নিয়ে শ্বশুর বাড়িতেই থাকে সে। মাঝে মাঝে এসে মায়ের খোঁজ নিয়ে যায়। ছোটো ছেলে আলম (৩৩)। সেও ঢাকায় গিয়ে কাজ করে। কিন্তু ভিক্ষার টাকায় টানাপরেনের মধ্যে নাতি নাতনিসহ ৩ জনের সংসার চালায় বছিরন। থাকার ঘরটিতে রাতে শুইলে পানি চুইয়ে পরায় ক্লান্তি নাশের জন্য একটু ঘুমিয়েও শান্তি নেই তার।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য-বাহেজ আলি বলেন, বছিরনের স্বামী থাকাকালীন ১০কেজি করে চালের ¯ি¬প দেয়া হয়েছিল। ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম আব্দুল্যাহ আল ওয়ালিদ মাসুমের কাছে জানতে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য