মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ মাত্র ৬ বছর বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও রোগে ভোগার কারণে এখন সারাদিন বাড়িতেই শুয়ে সময় কাটে তার। শরীরের তুলনায় একটু বেশি বড় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের শিশু শ্যামা রায়ের মাথা। জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা শ্যামা রায়।

পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, স্বাভাবিক শিশুর মতো জন্ম নেয় শিশু শ্যামা, জন্মের দুই মাস পর হঠাৎ করেই জ্বর হয় শ্যামার। এরপর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ওষুধে জ্বর ভালো হলেও দেখা দেয় শারিরিক সমস্যা। মাথার তালু তুলতুলে নরম হয়ে যায়। এরপর দিন দিন অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে তার মাথা।

তার মা জানায়, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিয়েছি, তবে সুস্থ্যতা মেলেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাথা সোজা করে রাখতে অনেক কষ্ট হয় তার এবং ঠিক মত হাঁটতেও পারে না শ্যামা। অল্প অল্প কথা বলতে পারে ও। স্থানীয় চিকিৎসকরা বলেছেন ঢাকায় গিয়ে উন্নত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠবে শিশু শ্যামা রায়। কিন্তু অভাবের কারণে ভূমিহীন দিনমুজুর বাবা-মায়ের পক্ষে ঢাকায় গিয়ে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না।

দিনমুজুর বাবা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “হামরা তো এমনিতেই মাইনছের জমিত ঘর করে আছি (আমরা তো এমনিতেই মানুষের জমিতে ঘড় করে আছি )। এই ছুয়াডার পিছনত মেলা টাকা ফুরাইছি (এই ছেলের পেছনে অনেক টাকা শেষ করলাম )। ডাক্তার ঢাকা লেগবা কহিছে হামার তো এতলা টাকা নাই ( ডাক্তার টাকা নিয়ে যেতে বলেছে আমাদের তো অনেক টাকা নাই )। মর বউ আর মুই মাইনছের জমিত কাম করে যা টাকা পাই তা দেহেনেই সংসারের খরচ চলেহে। ( আমি আর আমার স্ত্রী মিলে মানুষের জমিতে কাজ করে যা টাকা পাই তা দিয়েই আমাদের সংসারের খরচ চলে)।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামাল আহমেদ জানান, “এ রোগের নাম হাইড্রোকেফালাস। শিশু শ্যামার উন্নত চিকিংসার প্রয়োজন তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে শিশুটির।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য