যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে হোয়াইট হাউজের ঠিকানা নিশ্চিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, দায়িত্ব নেয়ার ৯ মাসের মাথায় সেই গ্রামাঞ্চলে তার জনপ্রিয়তা কমেছে বলে এক জরিপে দেখা গেছে।

সুনির্দিষ্ট কোনো একক কারণে নয়, নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনোটিই ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে না পারায় মফস্বল এলাকার মানুষ তার ওপর অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তবে অন্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় এখনো গ্রামেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জরিপ সংস্থা ইপসস ও রয়টার্সের যৌথ জরিপটিতে শহরের বাসিন্দা নন এমন ১৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের মত নেওয়া হয়েছে, তাদের ৪৭ শতাংশই ট্রাম্পের প্রতি তাদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় করা আগের জরিপে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অপছন্দের কথা জানিয়েছিলেন মাত্র ৩৯ শতাংশ মানুষ।

সেসময় ট্রাম্পকে পছন্দের কথা জানিয়েছিলেন ৫৫ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার, সেপ্টেম্বরে যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ শতাংশে।

গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে হারাতে গ্রামাঞ্চলের ভোটাররাই ছিলেন ট্রাম্পের ‘ট্রাম্প কার্ড’।

সেসময় গ্রামগুলোতে হিলারির চেয়ে ২৬ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প; যা মিশিগান, উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়ার মতো ‘যুদ্ধক্ষেত্র’বলে পরিচিত রাজ্যগুলোতে তাকে স্বল্প ব্যবধানে জয় এনে দেয়।

কোথাও কোথাও এই ব্যবধান ছিল এক শতাংশেরও কম। শহরের কেতাদূরস্ত ভোটারদের টেক্কা দিয়ে যারা মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন সেই গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের মধ্যেই এখন ট্রাম্পকে নিয়ে হতাশার সুর।

“প্রত্যেক প্রেসিডেন্টই ভুল করেন। কিন্তু এভাবে একের পর এক, একের পর এক ভুল, সবকিছুর তো মাত্রা থাকে,” বলেন ওহাইওর ম্যাককনেলসভিল গ্রামের মরগান কাউন্টি মেলার টিকেটবিক্রেতা জন উইলসন।

৭০ বছর বয়সী সাবেক এই ব্যাংকার গত বছরের নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থনে কাজ করেছিলেন; বছর পেরুনোর মাথায় জানালেন নতুন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে তার একগাদা হতাশার কথা।

হোয়াইট হাউজের ভেতরকার টানাপোড়েন আর ব্যক্তিগত গল্ফ রিসোর্টের প্রতি ট্রাম্পের আকর্ষণ উইলসনকে বিমুখ করেছে। তার আশা, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্কট নিরসনে আরও বেশি কিছু করবেন প্রেসিডেন্ট।

নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন তা থেকে তিনি সরে আসতে পারেন বলেও শঙ্কা উইলসনের।

রয়টার্সের জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প তার জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন গ্রামাঞ্চলের পুরুষ, শ্বেতাঙ্গ, এমনকি কলেজে পড়তে যাননি এমন ভোটারদের কাছেও।

নির্বাচনের দিন গ্রাম ও মফস্বলের যে ভোটাররা তার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন এবং যে রিপাবলিকানরা তার হয়ে কাজ করেছিলেন তারাও অসন্তুষ্ট।

জরিপে অংশ নেয়ারা অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সামলানোর ব্যাপারে তুলনামূলক বেশি নম্বর দিলেও অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়াতে অসমর্থতার কারণে ট্রাম্পের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে জরিপে দেখা গেছে।

ট্রাম্পের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম মাসেও ‘অভিবাসন নীতি’ নিয়ে সন্তুষ্টি ছিল ৫৬ শতাংশ গ্রামীন নাগরিকের; যা এখন কমে ৪৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

দেশের ভিতরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি নিয়েও অসন্তুষ্ট অনেকে। কারও কারও আপত্তি মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তুলতে দেরি করায়।

“সীমান্তের ‍ওপার থেকে বাধাহীনভাবে মানুষ ঢুকছে। সেখানে কোনো না কোনো লাগাম টানা এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জরুরি,” বলেন মিজৌরির ওয়ারেনসবার্গের ড্রিউ কার্লসন।

অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানোর ব্যাপারে ট্রাম্পের ‘নিশ্চল অবস্থানও অস্বস্তিতে ফেলছে’ বলে মন্তব্য ১৯ বছর বয়সী এই তরুণের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য