অগাস্টে একটি শিশুকন্যার জন্ম দেওয়া ভারতের ১০ বছর বয়সী একটি বালিকার চাচাই তার সন্তানের জন্মদাতা।

বিবিসির খবরে বলা হয়, তার এক চাচার ক্রমাগত ধর্ষণের কারণেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ এই চাচার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইনি বালিকাটিকে ধর্ষণ করা দ্বিতীয় চাচা। ইতোমধ্যেই প্রথম চাচাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে বালিকাটিকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানটির ডিএনএ স্যাম্পল অভিযুক্ত প্রথম চাচার ডিএনএর সঙ্গে খাপ না খাওয়ায় আরো সন্দেহভাজনের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। এরপর সেপ্টেম্বরে বালিকাটির দ্বিতীয় চাচাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চন্ডিগড় পুলিশের জ্যেষ্ঠ সুপার নীলামবারি বিজয় বিবিসিকে জানিয়েছেন, পুলিশ এখন দ্বিতীয় চাচার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ইনি ওই প্রথম চাচার ছোট ভাই।

তিনি বলেন, “এটা সত্য, শিশুটির ডিএনএ স্যাম্পল ওই (দ্বিতীয়) চাচার সঙ্গে খাপ খেয়েছে।”

তদন্তের শুরুতে বালিকাটি পুলিশ ও শিশু কল্যাণ আন্দোলনকারীদের কাছে তার প্রথম চাচার কথাই বলেছিল। সাত মাসে ওই চল্লিশোর্ধ চাচা তাকে কয়েকবার ধর্ষণ করেছে বলে সে জানিয়েছিল।

আদালতে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে বালিকাটি তার এই চাচাকে শনাক্ত করে পরিষ্কারভাবে তার নাম বলেছিল এবং তাকে নির্যাতনের বিস্তারিত জানিয়েছিল।

বালিকাটির বাবা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেননি। পুলিশও জানিয়েছে, সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় একটি আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি বালিকাটি পেট ব্যথার কথা বলার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তার বাবা-মা। সেখানেই তার গর্ভধারণের বিষয়টি আবিষ্কার হয়।

গর্ভধারণের সময়কাল ২০ সপ্তাহের বেশি হয়ে যাওয়ার কারণে চিকিৎসক প্যানেলের পরামর্শ অনুযায়ী মা ও শিশুর জীবনের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে প্রথমে চন্ডিগড়ের স্থানীয় আদালত এবং পরে সুপ্রিম কোর্টও বালিকাটির গর্ভপাতের অনুমতি দেয়নি।

বালিকাটি এখনও জানে না সে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। গর্ভাবস্থায় তাকে বলা হয়েছিল তার পেটে বড় একটি পাথর হওয়ায় পেট ফুলে উঠেছে।

বালিকাটির বাবা-মা শুরু থেকেই বলে এসেছেন, তাদের মেয়ের গর্ভের সন্তানের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই, তারা শিশুটিকে নিতেও চান না।

এ কারণে সদ্যজাত শিশুটিকে আপাতত দেখভাল করছে শিশু কল্যাণ কমিটি এবং পরে শিশুটিকে দত্তক হিসেবে কাউকে দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য