দুপুর পৌনে ১২ টায় হঠাৎ শব্দ। পল্লী চিকিৎসক ডাঃ ভবতোষ রায়, ডাঃ দশরত রায় ও দর্জি তুলশি চন্দ্র শব্দের উৎস খুঁজতে চেষ্টা চালালেন। কোথাকার শব্দ জানতে না পেরে ফিরে চলে যান। এরপর সন্ধ্যায় মন্দিরে সন্ধ্যাবাতি দেয়ার জন্য শিবমন্দিরের দরজা খুলতেই হতভম্ব হয়ে পড়েন পূজারী কৃষ্ণমোহন রায়। আগেই ফেটে থাকা শিবমুর্তিটি মাটিতে পরে আছে। সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন সেক্রেটারী জীবেশ চন্দ্র রায়। ঘটনাটি ঘটেছে চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের বলাইবাজার শিব মন্দিরে।

গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত ৯ টায় সরজমিনে গেলে পূজারী কৃষ্ণমোহন রায় ও সেক্রেটারী জীবেশ চন্দ্র রায় জানান, ওই মন্দিরে গত অন্তত ৫০ বছর পূর্বে ওই মুর্তিটি বসানো হয়। বাইরে থেকে দরজা তালা বন্ধ ছিল। এটা অলৌকিক ভাবে পড়ে থাকতে পারে। পল্লী চিকিৎসক ডাঃ ভবতোষ রায়, ডাঃ দশরত রায় ও দর্জি তুলশি চন্দ্র বলেন, আমরা প্রচন্ড শব্দ পেয়ে শব্দের উৎস না পেয়ে চলে যাই, সন্ধ্যার বাজারে এসে ওই ঘটনা শুনি।

এছাড়া ওই মন্দিরের ৫০ গজ পূর্বে রাজাপুর গ্রামে আরেকটি মন্দিরে শিবলিঙ্গের মুর্তিটির মাথা উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ঘুরে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শি শোভারানী রায়(৭৫) জানান, আমিসহ কাননবালা রায়(৬৫) নামে আরেকজন গোবিন্দ মন্দিরে পূজা করছিলাম, হঠাৎ আনুমানিক ৭ টার সময় গড় গড় শব্দ পাই। এরপর একটি কম্পন হয়।

আমরা পূজা শেষ করে বারান্দায় কিছুক্ষন বসার পর বাড়িতে যাওয়ার জন্য শিব মন্দিরের দরজায় তালা লাগাতে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখি মুর্তির মাথা ঘোরানো। মন্দিরের সামনেই কাঁচামাল ব্যবসায়ী শিবুনাথ রায়, মিলন চন্দ্র রায় জানান, হঠাৎ ২/৩ মিনিট গড় গড় শব্দ শুনি ও একটি কম্পন বুঝতে পারি।

ওই মন্দিরের সভাপতি ডাঃ অতুল চন্দ্র ও সম্পাদক মনিবাবু জানান, দুলাল বানিয়া নামে মন্দিরের পার্শ্বের দোকানদার আমাদের ঘটনাটি জানালে ছুটে আসি। এরপর ঘটনাটিসহ পার্শ্ববর্তি মন্দিরের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের লোকজন একনজর দেখতে ছুটে আসে। আমরা লোকজন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি। হাজার হাজার মানুষ একনজর দেখতে ভিড় করছেন।

কয়েকজন দর্শনার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেউ হয়তো অতি গোপনে মন্দিরে প্রবেশ করে পাথরের উপরে রাখা মুর্তিটি পাথরসহ ঠেলে ঘুরিয়ে দিয়েছে। এটিকে তীর্থস্থান বানাতে চাচ্ছে।

চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ হারেসুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল সরকার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক জানান, কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। দর্শনার্থীদের বিশৃংখলা না করে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকারী চাকুরীজীবি জয়ন্ত রায় জানান, মন্দিরে লোকজন মানত করতে ইতিমধ্যে টাকা-পয়সা দিচ্ছেন। টাকা গুলি মুর্তি পুনঃস্থাপনসহ মন্দিরের সংস্কার কাজে ব্যয় করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য