নির্দিষ্ট কসাইখানা থাকার সত্ত্বেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ি পৌর এলাকার প্রধান সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অন্তত ১২টি স্থানে গরু-মহিষের মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে ধুলা-বালি মেশানো মাংস ভোক্তারা কিনতে বাঁধ্য হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেখানে-সেখানে গরু-মহিষ জবাই করে সড়কের ধারে দোকান বসিয়ে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। পৌরকর্তৃপক্ষের দেখভালের কোন ব্যবস্থা নাই। সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত যানবাহন চলাচলের কারণে ধূলা-বালিসহ বিভিন্ন ধরনের জীবাণূ ঐ মাংসের ওপর পড়ছে। মাংসের টুকরা ও রক্ত ছিটকে গিয়ে পথচারীদের কাপড় নস্ট হয়ে যাচ্ছে।    

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার বাজার এলাকায় প্রতিদিন অন্তত ১২টি গরু জবাই করা হয়। শুক্রবার ও সোমবার দুইদিন সাপ্তাহিক হাটবসে। হাটের দিনে ২০টির মতো গরু জবাই হয়। এরমধ্যে নির্ধারিত কসাইখানায় তিন/চারটি গরুর মাংস বিক্রি হয়। বাকিগুলো শহরের প্রধান সড়কে বাসস্ট্যান্ড এলাকার দুটি স্থানে নজমূল ও হামিদুল, বটতলী মোড়ে আব্দুর রাজ্জাক, নিমতলা মোড়ের পূর্বধারে আলমগীর ও শওকত আলী, তৃপ্তি হোটের ধারে আলম ও আফজাল, উত্তরবঙ্গঁ হোটের ধারে আমিনুল ইসলাম ও শমসের আলী, রেলগেটের চারটি স্থানে আব্দুর রশিদ, বাদশা মিয়া, আমিনুল ইসলাম ও জাহানুর ইসলাম, ঝোলাপাড়া (বউবাজার) আব্দুর রহিম, ছফুর আলী ও নজরুল ইসলাম, পার্বতীপুর সড়কের হাজির মোড়ে সুবল মিয়া ও টিটিইর মোড় (ফুটব্রীজের ধারে) মমিন মিয়া গরুর মাংস বিক্রি করেন।   

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের অভ্যন্তরে দুইটিস্থানে পৌরসভার নির্ধারিত কসাইখানা রয়েছে। একটি পার্বতীপুর সড়কে নদীর ধারে অন্যটি স্বজনপুকুর এলাকার রেলঘুমটিতে। সেখানে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির জন্য সেড নির্মাণ করা আছে।

পৌরশহরের কাঁটাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এম.এ কাইযুম, চকচকা গ্রামের বকুল সরকার ও গৌরীপাড়া গ্রামের এস.এম নুরুজ্জামান বলেন, লোকজন মরাগরুর মাংস খাচ্ছে নাকি রোগাক্রান্ত গরু-মহিষের মাংস খাচ্ছে, সেটি বোঝার কোন উপায় নেই। পৌরকর্তৃপক্ষের দেখভাল একেবারেই নেই। সড়কে সারাদিন যানবাহন চলাচল করে তাতে ধূলা-বালিতে মাংসগুলো খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কের ধারে গরু-মহিষের মাংস টাঙিয়ে রেখে বিক্রি করার দৃশ্য অন্য শহরের কোথাও চোখে পড়ে না। বিভিন্ন ধর্মের লোকজন সড়ক দিয়ে চলাচল করে, অন্য ধর্মের লোকজন ঐ দৃশ্য দেখে বিরক্ত হন। কিন্তু মূখে কিছু বলতে পারেন না।   

আমিনুল ইসলাম, শমসের আলী, হামিদুল হকসহ কয়েকজন মাংস বিক্রেতা বলেন, পৌরসভার কাছে অনুমতি নিয়ে তারা সড়কের ধারে দোকান বসিয়েছেন। সকলে রাস্তার ধারে মাংস বিক্রি করে তাই তারাও করেন। পৌরসভা বাঁধা দিলে কসাইখানায় চলে যাবেন। গবাদিপশু জবাইয়ের আগে পৌরসভার কর্মকর্তা উপস্থিত থাকেন না বলেও তারা জানান।    

পৌরসভার সচিব মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, পৌর পরিষদের আগামী মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পৌরসভা মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, এখানে সড়কের ধারে মাংস বিক্রির বিষয়টি নতুন কিছু নয়, আগের মেয়র সেটি চালু করে গেছেন। একবার একটি পদ্ধতি চালু হলে সেটি বন্ধ করা মুশকিল, তবে শীঘ্রই এটি বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য