একদিকে বন্যায় কৃষকদের ফসলহানী। অন্যদিকে গো-খাদ্যের হাহাকার। অপরদিকে চাল ও মরিচসহ দ্রব্যমূল্য উর্ধগতি। সেই সাথে যোগ হয়েছে কৃষকদের আর্থিক সংকট। এরপরই সম্প্রতি দেখা দিয়েছে বন্যার অবশিষ্ঠ আমন ক্ষেতে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। কৃষকরা ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা কোনক্রমেই ধকল সামলাতে পারছেন না। নানান দুর্ভোগে পড়ছেন কৃষকরা। যেন শুরু হয়েছে মরার উপর খাঁড়ার ঘা। সবমিলে নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছে কৃষক মহল।

চলতি আমন মওসুমে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের মাঠপর্যায়ে এবার আমন ধান ক্ষেতে নেকব্লাস্ট, শীষ ব্লাস্ট ও বিএলবি (পাতা পোড়া) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

কৃষকরা জানান, রোপিত আমন ধানের গাছের পাতা সাদা হয়ে পঁচন ধরছে। তাদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের পরামর্শে সংক্রমিত জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এক জায়গায় এ রোগ দেখা দিলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো জমিতে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন এ উপজেলার দুই লাখেরও বেশি কৃষক।

রোববার সরজমিনে সাদুল্যাপুর উপজেলার বুজরুক রসুলপুর গ্রামের আমন চাষি মুনছুর আলী ও মোন্নাফ মন্ডল বলেন, আমার ৫০ শতক জমিতে হঠাৎই দেখি ধানের গাছের পাতা ও শীষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। পরে কৃষি বিভাগের লোক এসে ওষুধ লিখে দিলে সে মোতাবেক স্প্রে করি। কিন্তু পরের দিন এসে দেখি পুরো জমির ধানের শীষ সাদা হয়ে গেছে। একই কথা জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্রামের আরো বেশ কয়েকজন কৃষক। তাদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কোনো পরামর্শেই কাজ হচ্ছে না। ক্ষেতের পর ক্ষেত সাদা হয়ে গেছে। এতে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক মহল।

কৃষক জলিল উদ্দিন বলেন, আমার কোনো আবাদি জমি না থাকায় আমি ৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে আমন ধান চাষ করেছি। ৪০ মণ ধান ঘরে তোলার আশাবাদে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে লোন নিয়ে ধান চাষাবাদ করি। এমতাবস্থায় ওই ক্ষেতে সাদা পাতা ও শীষ বের হয়েছে। বর্তমানে জমি থেকে ১০ মণ ধান অর্জন করাও সম্ভবনা নেই। বিশেষ করে বি-আর-১১ জাতের ধানে এ রোগে আক্রান্ত বলে তিনি জানান।

গাইবান্ধা জেলার দায়িত্বরত মামুন এগ্রো প্রোডাক্টস লিঃ এর এসএমও সোলায়মান সরকার ও নাগবাড়ী বাজারের রিটেইলার শাফিউল মন্ডল এসব রোগের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন বিঘা প্রতি ৩০ গ্রাম ফিক্সার এর সাথে ১০০ গ্রাম পটাস মিশ্রিত স্প্রে করলে কৃষকেদের সমস্যা সমাধান হতে পারে।

সাদুল্যাপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের ও আবু নাছের জানান, এসব রোগের জন্য ফিক্্রার, টল ও সালফাইটার দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আর যেসব জমি এখনো সংক্রমিত হয়নি, সেসব জমিতে প্রতিরোধক হিসেবে ফিক্সার, নাটিভো, টল ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করছি।

সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছেন চলতি আমন মওসুমে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ১৪ হাজার ৫ শ ৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ হয়। এর মধ্যে গেল বন্যায় প্রায় ৩শ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে।

সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. ফজলু এলাহী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য