চার ছেলে পাঁচ মেয়েকে রেখে এক যুগ আগে অসুখে মারা যান দিনমজুর স্বামী মোখলেছুর রহমান। মা হামিদা রেওয়াকে (৭০) রেখে চার ছেলের সকলেই ছেড়ে যান তাদের শ্বশুরের দেয়া বাড়িতে। পাঁচ মেয়ের মধ্যে চার মেয়ে স্বামীর বাড়িতে। খোঁজ নেওয়ার সময় হয়না কারোরই। শুধুই প্রতিবন্ধি মেয়ে আকলিমা (৩০) রয়ে গেছেন মা হামিদা বেওয়ার সাথে। সেই সাথে সম্বল ছিলো শুধু মাথা গোজার প্রায় তিন শতক জমির উপর ভাঙ্গাচোরা মাটির একটি ঘর।

প্রতিবন্ধির মেয়ের প্রতি তিন মাস পর পাওয়া ভাতার আঠারোশ টাকা এবং অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে চলতো মা মেয়ে সংসার। টানা ৪ দিনের বর্ষণ ও এবারের বন্যায় ভেঙ্গে যায় হামিদা বেওয়ার ঘরটি। প্রতিবন্ধি মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন হামিদা বেওয়া। সহায় সম্বলহীন পরিবারটিকে আশ্রয় দেন ওই গ্রামের প্রভাষক আব্দুস সালাম। এভাবেই অতীব কষ্টে চলছিল মা-মেয়ের। ঘরটি ভেঙ্গে গেলেও ছেলেরা ও জামাইরা কেউ আসেনি নতুন করে তৈরী করতে।

অবশেষে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার হামিদা বেওয়াকে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে “প্রথম আলো নিবাস” নামের একটি টিনের ঘর। ১৮ ফুট দৈর্ঘ এবং ১০ ফুট প্রস্থের ঘরসহ দেওয়া হয়েছে একটি কাঠের খাট। সকাল ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম রব্বানী উপস্থিত থেকে হামিদা বেওয়ার হাতে ওই ঘরের চাবি তুলে দেন। ওই সময় চিরিরবন্দর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোরশেদ উল আলম, প্রথম আলো প্রতিনিধি এ এস এম আলমগীরসহ স্থানীয় গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। ঘর পেয়ে আবেগপ্লুত হামিদা বেওয়া বলেন, তোরা হামার খুব ভাল কইরলেন বাহে। ঘরটা ভাঙ্গিবার পর পাগলি (প্রতিবন্ধি) বেটিটাক (মেয়ে) নিয়া কুনঠে থাকোমো, কি করমো এই নিয়া চিন্তাতে আছোনো। আল্লাহ্ তোমার ভালো করুক । তোমার সবার জন্য দোয়া করোমো বা।

ইউএনও গোলাম রব্বানী বলেন, “দিনাজপুরে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে সরকারের পাশাপাশি প্রথম আলো ধারাবাহিক ভাবে দুঃস্থ্যদের পাশে দাঁড়িয়ে যে সহযোগিতা করেছে তা প্রশংসার দাবিদার। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রথম আলোর এ উদ্যোগ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়। ” এ সময় ইউএনও গোলাম রব্বানী হামিদা বেওয়ার জন্য দ্রুত বয়ষ্ক ভাতার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন।

হামিদা বেওয়া ছাড়াও প্রথম আলো ট্রাস্ট চিরিরবন্দরের সাইতাড়া ইউনিয়নের নান্দেড়াই হাফিজিয়া এতিমখানা, আব্দুলপুর ইউনিয়নের বানিযুগি এতিমখানা, আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের হাটখোলা হাফেজিয়া এতিমখানা, অমরপুর ইউনিয়নের সন্তোষপাড়া হাফেজিয়া এতিমখানায় ও বেলতলি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সিলিন্ডারযুক্ত টিউবওয়েল স্থাপন করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য