মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনা মিমাংসা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুরে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাকসিড়ি এলাকায় শালিস বৈঠকের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনাটি দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করেছেন বলে ধর্ষিতার বাবা স্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নের বাকসিড়ি এলাকার আরমান আলীর ছেলে বক্কর (১৬) এর প্রতিবেশী এক দিন মজুরের কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দির্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

শুক্রবার রাত ৮টায় বক্কর ওই কিশোরীর ঘরে প্রবেশ করে। এরই মধ্যে এলাকার কিছু লোক বিষয়টি টের পেয়ে যায়। পরে রাত ১১টায় বক্করকে অনৈতিক কার্যকলাপের সময় কিশোরীর ঘরে হাতে নাতে ধরে ফেলে প্রতিবেশিরা।

প্রতিবেশিরা ছেলে ও মেয়েকে আটক করে স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও ওয়ার্ড মেম্বার সুরেণকে খবর দেয়।

শনিবার সকালে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকাবাসী ছেলে ও মেয়কে বিয়ের জন্য ছেলের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে। ছেলের বাবা আরমান আলী ও স্থানীয় মেম্বার সুরেণ ঘটনাটি মিমাংসার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়।

পরে দুপুরে এক শালিস বৈঠকের মাধ্যমে রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম প্রভাব দেখিয়ে দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে মেয়ের পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে। মেয়ের বাবা দিন মজুর হওয়ায় বৈঠকে মিমাংসা করতে বাধ্য হয় বলে অনেকেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, আমরা সকলে চেয়েছিলাম ওই ঘটনায় ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু ছেলের বাবা প্রভাবশালী হওয়ায় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে ম্যানেজ করে ঘটনাটি ভিন্ন ভাবে মিমাংসা করেছেন। শালিসে আগামী মঙ্গলবার দেড় লক্ষ টাকা মেয়ের পরিবারকে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেয় চেয়ারম্যান।

মেয়ের বাবা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি মানুষের বাড়িতে দিন মজুরির কাজ করি। আমি চেয়েছিলাম আইনের আশ্রয় নিতে কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব বিষয়টি দেখবেন বলে শালিসের মাধ্যমে দেড় লক্ষ টাকা ওই ঘটনার জন্য ক্ষতি পূরনের আশ্বাস দিয়েছে। ওরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে আমি কিছু বলতে ও করতেও পারছি না।

ওয়ার্ড মেম্বার সুরেণ জানান, ঘটনাটি স্থানীয়দের নিয়ে মিমাংসা করা হয়েছে। ছেলে আর মেয়ের বয়স না হওয়ায় তাদেরকে বিয়ে দেওয়া হয় নাই।

রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সাথে মিমাংসার ঘটনাটি জানার জন্য একাধিক বার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি (০১৭১৬২৭৯২৪০)।

ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, মেয়ের পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে ওসি জানান।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসলাম মোল্লা জানান, ধর্ষনের ঘটনা মিমাংসা যোগ্য নয়। যদি শালিস বৈঠকের মাধ্যমে এমনি হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য