চলমান বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ন থাকতে হবে এমন সর্তকে উপেক্ষা করে নিয়ম বহি:ভুত ভাবে হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের পথ্য সরবরাহের অনুমতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। আর অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে সর্বনি¤œ দরদাতাকে পথ্য সরবরাহের অনুমতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে টেন্ডার কমিটির বিরুদ্ধে।

দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর হাসপাতালের রোগীদের পথ্য সরবরাহের জন্য চলতি অর্থ বছরের (২০১৭-১৮) জন্য দরপত্র আহবান করেন সিভিল সার্জন। রোগীদের এসব পথ্য সরবরাহে দরপত্র দাখিল করে ছয় জন ঠিকাদার। দরপত্রের ৭ নং কলামের শর্ত মোতাবেক চলমান বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ন রেখে দর প্রদান করতে হবে। বাস্তবে দেখা গেছে দরদাতা প্রতিষ্ঠান প্রতি কেজি আতব চালের দাম দিয়েছে ৫টাকা, রুই, কাতলা, মৃগেল এবং ইলিশ মাছের কেজি দেয়া হয়েছে মাত্র ১টাকা। দেশী মুরগীর মাংস প্রতি জেজি ১টাকা, খাসির মাংস প্রতিকেজি ১শ টাকা। মুরগীর ডিম প্রতি পিস ১টাকা। সোয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০টাকা। সব্জি প্রতি কেজি ৫টাকা। আলু, পেয়াজ, আদা, রসুন, মরিচ, হলুদ প্রতি কেজি ১টাকা। প্রতিপিস ডাব ও কলা ১টাকা।

এই দামে এসব খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান হলেও বাস্তবে এমন দরেই রোগীদের পথ্য সরবরাহে ঠিকাদারকে অনুমোদন দিয়েছে দিনাজপুর সিভিন সার্জনের নেতৃত্বে রোগীদের পথ্য সরবরাহের টেন্ডার কমিটি। আর এই অনুমতি দেয়া হয়েছে দরপত্র দাখিলে অংশ গ্রহন করা ৩য় সর্বনি¤œ দরদাতা বীরগঞ্জের সৈয়দ শফিকুল ইসলামকে।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মধ্যে রয়েছেন, দিনাজপুর সিভিন সার্জন ডাঃ মওলা বক্স চৌধুরী ছাড়াও হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আতাউর রহমান, দিনাজপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ ওহাহেদুল হক, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ডাঃ দ্বিজেন চন্দ্র, দিনাজপুর গণপুর্ত বিভাগের উপ-প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার মেরিনা আফরোজ।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্তে মন্তব্য দেয়া হয়, অধিকাংশ আইটেমের প্রদত্ব দর চলমান বাজার দরের সাথে অত্যাধিক নিন্মদর থাকায় ১ম সর্বনি¤œ দরদাতার দরপত্র বাতিল করা হয়। এই নিন্ম দরে রোগীদের পথ্য সঠিক পরিমানে সরবরাহ করতে পারবেনা বরং পথ্য সরবরাহ কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই রোগীদের স্বাস্থ্য সেবার কথা বিবেচনা করে ২য় সর্বনি¤œ দরদাতাকে অনুমতি প্রদান করা হলো।

ওদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে মোট ৪৭ টি দ্রব্য সরবরাহে চলমান বাজারদর ১০ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারন করেছেন সিভিল সার্জন অফিস। ১ম নি¤œ দরদাতা (৫৪৭/- টাকা) রোগীদের পথ্য সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হলেন। ২য় নি¤œ দরদাতা (৭৮৮/০৫ টাকা) মৌমিতা কনকট্রাকশনকেও বাদ দিয়ে ৩য় দরদাতা সৈয়দ শফিকুল ইসলামকে ২য় নি¤œ দরদাতা (৮৮১/- টাকা) বানিয়ে পথ্য সরবরাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে। যা নির্ধারিত চলমান বাজার দরের সাথে অসংগতিপুর্ন।

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে ৬ টি দরপত্র জমা পড়েছে তার কোনটারই নির্ধারিত চলমান বাজার দরের সাথে সংগতিপুর্ন নয়। ৩য় দরদাতা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম পথ্য সরবরাহের অনুমতি নিতে এসেছিলেন কিন্তু তার সাথে সাক্ষাত হয়নি। কিন্তু কি করে সৈয়দ শফিকুল ইসলাম পথ্য সরবরাহ করবেন জানিনা। তবে সঠিক ভাবে পথ্য সরবরাহ করতে ব্যার্থ হলে সর্ত অনুযায়ী তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এপ্রসঙ্গে হাকিমপুরের বিশিষ্ট্য ব্যক্তি ফেরদৌস রহমান জানান, রোগীদের খাবার দেওয়ার ব্যপারে আগে থেকে অভিযোগ আছে নি¤œমানের খাবার দেওয়া হয়। তাছাড়া চুক্তিপত্রে যেসমস্ত খাবার দেয়ার কথা তা দেয়া হয়না। আর বর্তমানে যে দরে রোগীদের খাবার সরবরাহ করা হবে তা নিঃশন্দেহে বলা যায় খাবারের মান বলে কিছুই থাকবেনা। কারণ ১টাকা কেজিতে কোথাও কিছু পাওয়া যায় না।

অসংগতিপুর্ন এই দরপত্র বাতিল করে পুনরায় সামযস্যপুর্ণ দরপত্র গ্রহণ করবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এমনটিই মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য