চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বন্যার ক্ষত কাটিয়ে উঠে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আগাম জাতের আমন ধান পাকতে শুরু করায় কৃষকদের চোখে মুখে এখন হাসির ঝিলিক। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধানক্ষেতগুলোতে সোনালী বাতাশ বইছে। সপ্তাহ খানেক পরেই আগাম জাতের হাইব্রিড ধান কাটতে শুরু করবে কৃষকেরা।

তবে এসময় বাদামী গাছ ফড়িং কারেন্ট পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমনের ভয়ও করছেন অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ধানের বাম্পার ফলনে যাতে অনাকাঙ্খিত পোকা ও কোন ধরনের রোগবালাই ক্ষতি করতে না পারে এজন্য তারা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ, ব্লক পর্যায়ের সকল উপ-সহকারীদের সার্বক্ষণিক ব্লক পরিদর্শন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করাসহ পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উঠান বৈঠক, দলীয় আলোচনা, জনসচেতনতা মূলক সভা, লিফলেট বিতরণ, আলোরফাঁদ স্থাপন, ভিডিও প্রদর্শনী, অতন্ত্র জরিপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

এছাড়াও বাদামী গাছ ফড়িং কারেন্ট পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমন হতে ধানক্ষেতকে রক্ষা করতে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। সাতনালা গ্রামের আর্দশ কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, স্বল্প মেয়াদী ও আগাম জাতের ধানচাষের প্রবণতা এখন আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে যেমন তীব্র অভাবের সময় ঘরে ফসল উঠছে, তেমনি কৃষি শ্রমিকদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।

আবার ধান কাটার পর ওই জমিতে আলুসহ অন্যান্য রবি শস্য আগাম চাষ করারও সুযোগ থাকছে। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধানক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, অভাবের সময় ঘরে তোলা যায় এমন আগাম ও স্বল্পমেয়াদী জাতের ধানের চাষাবাদ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠ এখন দেখে বোঝার উপায় নেই যে সম্প্রতি স্বরণকালের ভয়াভহ বন্যায় ধানক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছিল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান জানান, বন্যার ক্ষত কাটিয়ে আগাম জাতের আমন ধানের পাকা ক্ষেত দেখে আমিও আনন্দিত। এ ধানের চাষাবাদ করে মঙ্গার সময়টিতে ধান ঘরে তুলে একই জমিতে রবিশস্য ফসলেরও চাষ করতে পারবেন কৃষকরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য