কর্মীদের বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা দিতে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়ে নতুন নির্দেশ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এই নির্দেশের কথা জানায় বলে খবর বিবিসির।

নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে, যদি জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা দিতে গিয়ে তাদের ‘ধর্মীয়’ কিংবা ‘নৈতিক বিশ্বাস ভঙ্গ’ হয় তাহলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও বীমা কর্মীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে।

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চাওয়া ‘ওবামাকেয়ারের’ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ওই আদেশে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ছাড় ছিল; কর্মীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ সেবা দেওয়া না দেওয়া সেসব প্রতিষ্ঠানের মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিবিসি বলছে, বিভিন্ন কোম্পানিকে বিনামূল্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা দিতে ওবামা আমলে করা আগের আদেশে অন্তত সাড়ে ৫ কোটি মার্কিন নারী সুবিধা পেয়েছেন।

হোয়াইট হাউজের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ট্রাম্প পূর্বসূরীর আদেশটি বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতাতেই নিয়োগকারী ও বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ‘নৈতিক ছাড়ের’ সুযোগ রেখে নতুন নির্দেশটি জারি করা হল।

শুক্রবার এইচএইচএস জানায়, জন্ম নিয়ন্ত্রণ সেবা দেওয়ার বাধ্যতা থেকে সরে আসতে এবং বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক সামগ্রী দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে এমন প্রতিষ্ঠানের বিস্তৃতি গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) এবং ন্যাশনাল ওমেনস ল সেন্টার কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে।

নিয়ম বদলানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় এইচএইচএসের কর্মকর্তারা একটি গবেষণার দাবি করা তথ্য-উপাত্ত টেনে বলেন, বিনামূল্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সেবা ও গর্ভনিরোধক সামগ্রী `ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ’ উৎসাহিত করছে।

বিনামূল্যে না পেলে কতো সংখ্যক নারী জন্ম নিয়ন্ত্রণ সুবিধা হারিয়ে বিপদে পড়বে ওই গবেষণায় সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য ছিল না।

এইচএইচএস অফিস অব সিভিল রাইটসের পরিচালক রজার সেভেরিনোর দাবি, সুবিধা হারানো নারীর সংখ্যা বেশি হবে না।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা এতদিন ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিনামূল্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সেবা ও গর্ভনিরোধক সামগ্রী দিতে বাধ্য হয়েছেন, তারা নতুন নির্দেশের সুবিধাভোগী হবেন।

বিনামূল্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সেবা কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভ ধারণ প্রতিরোধেই ব্যবহৃত হত না, অনেক ক্ষেত্রে ডিম্বাশয় ও জরায়ুর চিকিৎসাতেও এই সেবা কাজে লাগতো।

আমেরিকান কংগ্রেস অব অবস্টেট্রিসিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকলোজিস্ট সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে ‘স্তম্ভিত‘ হওয়ার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সরকারি নির্দেশের ফলে তাদের রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের নারী স্বাস্থ্য পেছনের দিকে হাঁটবে।

পলিসেস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে ভোগা ওয়াশিংটন রাজ্যের বেলিংহামের ৩৩ বছর বয়সী নারী দিয়েদ্রা পেনার বিবিসিকে জানান, জন্ম নিয়ন্ত্রণে সেবায় প্রবেশাধিকার কমায় তিনি এখন তার চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত।

ওবামাকেয়ারের কারণে সরকার তার চিকিৎসার আংশিক ব্যয় বহন করতো।

ডেমোক্রেটদের সমর্থন না পেলেও ধর্মীয় গোষ্ঠী ও রক্ষণশীল রিপাবলিকানরা নতুন এই নির্দেশে উল্লাস জানিয়েছে।

হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার ও প্রভাবশালী রিপাবলিকান পল রায়ান নতুন এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য মাইলফলক দিন।”

এই সিদ্ধান্তের কারণে রিপাবলিকান পার্টি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি এই নির্দেশের ফলে নারীদের খরচ বাড়বে, যা ২০১৮-র নির্বাচনে রিপাবলিকান ঘাঁটি বলে পরিচিত এলাকাগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য