আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ‘হারা মুল্লুকে পানি, ঘরের মদ্যেও হাঁটুপানি। ঘরে চোকি খালি ডাইবা যায়। তাই ভেলার মদ্যে রান্না করছি। খাওন তো নাগবো। এক বেলা রান্না করি তা-ই দুই বেলা খাইয়া থাহি। দশ দিন থিকা এবা কষ্ট করছি। ঘরের খাবারও শেষ হইয়া যাবার নাগছে’—কথাগুলো বলছিলেন, লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা নদীবর্তী গড্ডিমারী ইউনিয়নের নিজ গড্ডিমারী গ্রামের জসীমন নেছা (৩০)। বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গড্ডিমারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার ১০ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

পরিবার গুলোর ঘরে পানি উঠায় রান্না করতে না পারায় অনেকে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ওই সব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেব মোড় এলাকায় গত কয়েকদিনের বন্যায় বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় তিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে এসব এলাকায় প্রায় দুইশতাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়ে।

আবারও উজানের ঢলে তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় ৪ টি ইউনিয়নে গত ১০ দিন ধরে তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধিতে হাতীবান্ধা উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গড্ডিমারী ইউনিয়নে নিজ গড্ডিমারী গ্রামের হাসিনা খাতুন (২৫) জানান, গত ১০ দিন ধরে চুলা জালাতে পারিনি। সন্তানদের নিয়ে কষ্টে আছি। নিজ গড্ডিমারী গ্রামের শাহিনুর মিয়া (৩৫) জানান, তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়ে আছি। গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যার আতিয়ার রহমান জানান, তালেব মোড় এলাকায় বাধঁটিতে মাটি ভরাট চলছে।

হাতীবান্ধার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলা দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। পানি বন্দি পরিবারের গুলোর জন্য বরাদ্দ চেয়ে উদ্ধর্তন কতৃকপক্ষর কাছে আবেদন করেছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য