আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের জামলারজান-ঠুটিয়াপুকুর সড়কের পাকুরিয়ার বিল থেকে কুঞ্জমহিপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ কাজে নিম্নমানের ইটের সুরকি ও খোয়া ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম দূর্নিতীর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সিডিউল অনুযায়ী ভালো মানের ইট ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমাণের ২ ও ৩ নম্বর ইটের খোয়া ও সুরকি। এরআগেও একবার এই সড়কে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে কাজও বন্ধ করেছিল এলাকাবাসি। কিন্তু তারপরও আবারো স্থানীয় এলজিইডির কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ওই নিম্নমানের ইটের খোয়া ও সুরকি দিয়েই কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

সাদুল্যাপুর উপজেলা সদরের সাথে উপজেলার ভাতগ্রাম, খোর্দ্দকোমরপুর ও ইদিলপুর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী পলাশবাড়ী উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র জামলারজান-ঠুঠিয়াপুকুর কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিলো স্থানীয়দের। ইতোমধ্যে পাকুরিয়ার দিঘী থেকে জামলারজান ও ঠুটিয়াপুকুর থেকে কুঞ্জমহিপুর পর্যন্ত সড়কটি পাকা করণ করা হয়েছে। সড়কের বাকী অংশ প্রায় ৬ কিলোমিটার পাকা করণের জন্য অবশেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত অর্থ বছরে টেন্ডার আহবান করে।

গত বছরের অক্টোবরে ওই সড়ক পাকাকরণ কাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এন্ড মনি এন্টারপ্রাইজ। পরে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি বিক্রি করে দেয় স্থানীয় খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজলার রহমান নজেলের কাছে। এরপর থেকে নজল প্রভাব খাটিয়ে নিন্মমানের কাজ করে যাচ্ছে।

সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ কিলোমিটারের সড়টি পাকা করণে মোট ব্যায় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এক বছর ধরে চলা সড়কটির পাকাকরণের কাজ আগামী ২৪ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ২ কিলোমিটার।

সড়কটির দুই ধারের লোকজনের অভিযোগ, এক বছর ধরে থেমে থেমে চলছে সড়ক পাকাকরণের কাজ। শুরুতে সড়কটির কাঁদা মাটি পরিস্কার না করেই ভিতে (সড়কের সাববেস ও বেস তৈরীতে) বালুর পরিবর্তে মাটি ও নিম্নমানে ইটের খোয়া ও সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কের ডাবলু বি এম (ওয়াটার বাউন্ড মেকাডাম) তৈরীতে একেবারে নিম্নমাণের (রাবিস) ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ খোয়ার উপরে বিটুমিন (কাপের্টিং) করা হলে সড়কটি টেকসই হবে না।

ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাব্বী আবদুল্যাহ রিয়ন বলেন, ‘নিম্নমাণের কাজ হওয়ায় কিছুদিন আগে এলাকাবাসীর অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে কাজ বন্ধ রাখা হয়। এসময় স্থানীয়দের ভালো কাজের আশ্বাস দিয়ে আবারো কাজ শুরু করে ঠিকাদার। কিন্তু পাকা করণ কাজে প্রতিনিয়ত নিম্নমাণের ইটের খোয়া ও সুরকি দিয়ে কাজ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান’।

এব্যাপারে বর্তমান ঠিকাদার নজলার রহমান নজেল নিম্নমানের ইটের খোয়া দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্তমানে ইটের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আশেপাশে ইট কিনতেও পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও বেশি দামে ইট কিনে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। তাতে হয়তো সামান্য এদিক ওদিক হতে পারে। সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মাজহারুল ইসলাম জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য