পুয়ের্তো রিকোর ঘূর্ণিঝড়বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার অসহায় মানুষের উদ্দেশ্যে ত্রাণ হিসেবে পেপার টাওয়েল ছুড়ে মেরে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ঘূর্ণিঝড় মারিয়া আঘাত হানার দুই সপ্তাহ পর মঙ্গলবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্যারিবীয় এই দ্বীপের অবস্থা দেখতে যান বলে খবর বিবিসির।

সেখানেই এক গির্জায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহে অংশ নেন তিনি। পেপার টাওয়েল ছুড়ে মারার ঘটনাটিও এখানেই ঘটে।

এই ঘটনার পর পুয়ের্তো রিকোর রাজধানী সান জুয়ানের মেয়র কারমেন ইউলিন ক্রুজ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরকে ‘অপমানজনক’ অভিহিত করেছেন; ট্রাম্পকে অ্যাখ্যা দিয়েছেন ‘মিসকমিউনিকেটর-ইন-চিফ’ হিসেবে।

দ্বীপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিভিশনে দেখানো ট্রাম্পের ১৭ মিনিটের বৈঠককে ‘লোক দেখানো’ অভিহিত করে ক্রুজ বলেন, “জনগণের দিকে পেপার টাওয়েল ছুড়ে মারার এই দৃশ্য ছিল ভয়াবহ ও জঘন্য।”

ট্রাম্প অবশ্য তার টুইটে পুয়ের্তো রিকো সফরকে ‘অসাধারণ’ বলেছেন। গণমাধ্যম তার পুয়ের্তো রিকো পরিদর্শন নিয়ে উল্টোপাল্টা বলছে বলেও অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের।

“গতকাল পুয়ের্তো রিকোয় অসাধারণ সময় কেটেছে। যদিও কিছু গণমাধ্যম মিথ্যা সংবাদ দিচ্ছে, সেখানকার বেশিরভাগ মানুষই উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেছে,” বুধবার টুইটে এমনটাই বলেন ট্রাম্প।

ঝড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা লন্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার পরও হোয়াইট হাউজ সঙ্কট মোকাবেলায় সহযোগিতা করছে না বলে বারবার অভিযোগ করে আসছিলেন পুয়ের্তো রিকোর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।

বিবিসি বলছে, দুই সপ্তাহ পরও সেখানকার মাত্র ৭ শতাংশ জনগণ বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে। দুর্গম এলাকার অনেকেই এখনো খাবার, পানি ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত।

পাঁচ ঘণ্টার সফরে গিয়ে ট্রাম্প দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করা জরুরি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পুয়ের্তো রিকোর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ শোনেন।

পুয়ের্তো রিকোর জনগণকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের বাজেটকে খানিকটা হুমকির মুখে ফেলেছেন, তবে এটা ঠিক আছে।”

হারিকেন ক্যাটরিনার তুলনায় পুয়ের্তো রিকোতে কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও ইঙ্গিত করেন ট্রাম্প।

ঝড়ে কতজন নিহত হয়েছেন সেই বিষয়েও ট্রাম্প যে জানতেন না, বক্তৃতায় তারও প্রমাণ মেলে।

ট্রাম্প তার বক্তৃতায় নিহতের সংখ্যা ১৬ বললেও পুয়ের্তো রিকোর গভর্নর রিকার্ডো রোসেলো পরে জানান, মারিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪-এ দাঁড়িয়েছে।

ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প সান জুয়ান ঘুরে দেখেন।তিনি একটি গির্জায় প্রবেশ করে অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তাদের দিকে পেপার টাওয়েল ছুড়ে মারেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের প্রতিবেদনে বলে, গির্জায় অবস্থানের সময় ট্রাম্প সেখানকার সৌরচালিত ফ্ল্যাশলাইটগুলোর দিকে বেশ কয়েকবার তাকান, এবং বলেন, “আপনাদের এগুলো (ফ্ল্যাশলাইট) আর দরকার হবে না।”

পুরো দ্বীপের শোচনীয় বিদ্যুৎব্যবস্থার কথা ভুলে গিয়েই ট্রাম্প এই মন্তব্য করে থাকতে পারেন বলে ধারণা সংবাদমাধ্যমটির।

পরে সান জুয়ানের মেয়র ইউলিন ক্রুজ এমএসএনবিসিকে বলেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক ছিল ‘জনসংযোগ অনুশীলনের অংশ’ এবং এতে কারও সঙ্গেই এমনকি মেয়রের সঙ্গেও কোনো কিছু নিয়েই ফলপ্রসূ কথা হয়নি।

“পেপার টাওয়েল ও রসদ অসহায় মানুষের উপর ছুড়ে মারছেন প্রেসিডেন্ট, ভয়াবহ ও জঘন্য এই চিত্র নিশ্চয়ই মার্কিন জনগণের স্পিরিট ধারণ করে না,” বলেন ক্রুজ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটকে হুমকি মধ্যে ফেলার কথা বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুয়ের্তো রিকোর জনগণকে ‘অপমান করেছেন’ বলেও মন্তব্য মেয়রের; ক্যাটরিনার সঙ্গে মারিয়ার ধ্বংসযজ্ঞের তুলনা করে করে ট্রাম্প ‘পুয়ের্তো রিকোর জরগণের দূর্ভোগকে খাটো করেছেন’ বলেও অভিযোগ তার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য