নাইজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যৌথভাবে টহল দেওয়ার সময় চোরাগোপ্তা হামলায় নাইজারের পাঁচ সৈন্য এবং যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোসের তিন সেনা নিহত হয়েছেন।

বুধবারের এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আরো তিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাইজার ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আল কায়েদা থেকে শুরু করে ইসলামিক মাগরেব (একিউআইএম) এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিদ্রোহীদের উপস্থিতি আছে এমন একটি এলাকায় ‘গ্রিন ব্যারে’ নামে পরিচিত স্পেশাল ফোর্সের সেনারা নিয়মিত টহলে থাকার সময় হামলার শিকার হয়।

তবে কারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বাহিনীগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে তা পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। যৌথ বাহিনীর ওই সেনারা কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা কোনো জিম্মি উদ্ধারের জন্য ওই এলাকায় টহল দিচ্ছিল না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নাইজার-মালির সীমান্তে একটি প্রাণঘাতী চোরাগোপ্তা হামলা হয়েছে, রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের (আরএফআই) এমন খবরের পর তা নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ডের এক মুখপাত্র।

ওই মুখপাত্র বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজারের যৌথ টহল দল দক্ষিণ-পশ্চিম নাইজারে শত্রুপক্ষের গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে, এমন প্রতিবেদনগুলো নিশ্চিত করতে পারি আমরা।”

নাইজারের তিলাবেরি অঞ্চলের কর্মকর্তা নামাত্তা আবুবকর জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচ নাইজারীয় সৈন্য আছে।

এ ঘটনায় পাল্টা-হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আরএফআই।

নাইজারের একটি কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলাকারীরা মালি থেকে এসে বেশ কয়েকজন সৈন্যকে হত্যা করেছে। তবে নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা আছে কি না তা জানাননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লাগ ভেগাস থেকে ফেরার সময় তাকে টেলিফোনে এ ঘটনার কথা জানান হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি।

রোববার লাস ভেগাসে ঘটে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ‘মাস শুটিংয়ের’ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ও আহতদের দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। গুলিবর্ষণের ওই ঘটনায় ৫৮ জন নিহত ও ৫২৭ জন আহত হন।

সাহেলের মরুভূমি অঞ্চলের দরিদ্র ও বিরল জনবসতি এলাকাগুলোতে বিদ্রোহীদের তৎপরতা বাড়ছে। এসব এলাকায় শক্ত অবস্থান গড়ার চেষ্টা করছে জিহাদি গোষ্ঠীগুলো। এসব জিহাদি গোষ্ঠীকে দমন করতে পশ্চিমা সেনাদের সমর্থনে আফ্রিকার নিরাপত্তা বাহিনীগুলো তৎপরতার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে ওই এলাকায় চালানো কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘ইসলামিক স্টেট ইন দ্য গ্রেটার সাহারা’ নামের নতুন একটি জঙ্গিগোষ্ঠী।

বুধবারের হামলায় আইএসের কোনো ভূমিকা থাকার খবরটি নিশ্চিত হলে লিবিয়া থেকে সাহেল অঞ্চলে আইএসের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসবে বলে মনে করেন ‘নর্থ আফ্রিকা রিস্ক কনসাল্টিং’ এর প্রধান জিওফ ডি. পোর্টার।

“শক্তিকেন্দ্রটি এখন দক্ষিণে সরে যাবে,” বলেন তিনি।

এই অঞ্চলজুড়ে কয়েকশত সেনা মোতায়েন করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড। পাশাপাশি আগাদেজ অঞ্চলে একটি বিমানক্ষেত্রসহ নাইজারের সেনাবাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সমর্থন দিচ্ছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য