মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারে শ্রমিকদের মজুরী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা এজার উদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, জুলাই/আগষ্ট’১৭ মাসের হর্টিকালচার সেন্টারে কর্মরত (অনিয়মিত) শ্রমিকদের মজুরী বকেয়া ছিল। বকেয়ার মজুরী পরিশোধ করার সময় শ্রমিক শফিকুলের ৩ ও তোহিদুল ইসলামের ৬ দিনের অতিরিক্ত মজুরী উত্তোলন করা হয়। বর্তমানে অতিরিক্ত মজুরীর টাকা ওই শ্রমিকরা নিজেদের কাছে রেখেছেন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

শ্রমিক শফিকুল, তোহিদুল ও পহল্লাদ জানান, উল্লেখিত মাসের বকেয়া মজুরীর টাকা উত্তোলনের সময় শফিকুল ৪০ দিন কাজ করে এবং তোহিদুল ৩৭ দিন কাজ করে। কিন্তু উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা ইজার উদ্দীন সরকার বিল প্রস্তুত করে নার্সারী তত্ত্বাবধায়ক আব্দুর রহিমের কাছে জমা দেন।

ওই সময় ওই ২ জনের বিলের শীটে ৯ দিনের মজুরী অতিরিক্ত উত্তোলন করা হয়। শ্রমিকদের উত্তোলনকৃত মজুরী প্রদানের সময় উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা ৯ দিনের বিল কম দিতে চাইলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। পরে নার্সারী তত্ত্বাবধায়কের কথায় সম্পুর্ন মুজরীর টাকা শ্রমিকদের প্রদান করেন ইজার উদ্দীন সরকার।

এছাড়াও ইজার উদ্দীন সারকারের বিরুদ্ধে সরকারী নার্সারী থেকে বারী-৪ জাতের ৭শ আম গাছের চারা নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নার্সারীতে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, কৃষিমেলা শুরুর সময় উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা ইজার উদ্দিন সরকারের কথা মত আমরা ৭শ আম গাছের চারা পিক-আপ গাড়িতে উঠিয়ে দিই।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা ইজার উদ্দিন সরকার জানান, বাহিরে থেকে কলম করার জন্য উল্লেখিত ৭শ চারা নিয়ে এসেছিলাম। পরে সেগুলো আমি বাড়িতে নিয়ে গেছি। তবে এ জাতীয় ব্যাপারগুলো সে সময়কার নার্সারী তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল হামিদ জানেন।

পরে মোবাইলে আব্দুল হামিদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওই সময় নার্সারীতে চারা সংকট ছিল তাই বাহির থেকে কিছু চারা নিয়ে আসা হয়েছিল বলে আমি জেনেছি। শ্রমিকের মজুরীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি বর্তমানে অবসরে গেছি। আমি থাকাকালীন সময় শ্রমিকের মজুরী নিয়ে কোন সমস্যা হয়নি।

উদ্যান তত্ত্বাবধায়ক আব্দুর রহিম জানান, শ্রমিকদের কাছে অতিরিক্ত কয়েকদিনের মজুরীর বিষয়টি আমি জেনেছি। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে,এম মাউদুদুল ইসলাম জানান, হর্টিকালচার সেন্টারে বাহিরে থেকে চারা নিয়ে এসে সেগুলো সরকারী সার, টব, শ্রমিক দিয়ে ৯ মাস বড় করার কোন নিয়ম নাই। শ্রমিকদের অতিরিক্ত মজুরীর বিষয়টি তিনি শুনেছেন এ বিষয়ে তিনি তদন্ত করবেন বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য