লাস ভেগাসের হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন স্টিভেন প্যাডকের কথিত বান্ধবী মারিলু ডেনলি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন।

মঙ্গলবার রাতে ফিলিপিন্স থেকে এসে তিনি লস অ্যাঞ্জেলসের বিমানবন্দরে নামার পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেনলিকে খুঁজছিল যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ‘আগ্রহের কেন্দ্রে’ ছিলেন ডেনলি।

প্যাডক রোববার লাস ভেগাসের এক উন্মুক্ত কনসার্টে নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে ৫৮ জনকে হত্যা ও পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে আহত করেন। ম্যান্ডাল বে নামের একটি ক্যাসিনোর ৩২ তলার একটি কক্ষ থেকে গুলি চালিয়েছেন তিনি। পরে পুলিশ আসার আগেই আত্মহত্যা করেন।

অবসরপ্রাপ্ত অ্যাকাউনটেন্ট প্যাডক হোটেলের সুউচ্চ ভবন থেকে সামনে চলা উন্মুক্ত কনসার্টে কেন নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিলেন তার কারণ এখনো বের করা যায়নি।

৬৪ বছর বয়সী প্যাডকের বিমান চালনা ও শিকারের লাইসেন্স ছিল। এর আগে তার কোনো অপরাধে জড়িত হওয়ার রেকর্ড নেই পুলিশের খাতায়।

প্যাডকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই তার নেভাদার মেসকিটের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন ডেনলি; ঘটনার সময় তিনি টোকিওতে ছিলেন বলে ধারণা করা হলেও পরে ফিলিপিন্সেই তার খোঁজ মেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনার কিছুক্ষণ পরই তারা ডেনলির সঙ্গে যোগাযোগে করতে সক্ষম হন।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই ডেনলি ফিলিপিন্সে ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

২৮ সেপ্টেম্বর ম্যান্ডাল বে হোটেলে ওঠেন প্যাডক। ওই সময় হোটেলের চেকিংয়ে ডেনলির পরিচয়পত্রের কিছু নথিও তিনি ব্যবহার করেন বলে বলা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মঙ্গলবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গুলির ঘটনার আগে প্যাডক ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন। ওই ডলার ডেনলিকেই পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

ওই ডলার ডেনলির একটি একাউন্টেই জমা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফিলিপিন্সের পুলিশ।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারগুলো এমনভাবে পাঠানো হয়েছে যাতে মনে হচ্ছে- ডেনলিকে জীবন বীমার কিস্তি পাঠিয়েছেন প্যাডক।

স্টিভেন প্যাডকের ছোট ভাই এরিক প্যাডক নিউ ইয়র্ক টাইমকে জানিয়েছেন, তার ভাই ডেনলিকে ভালোবাসতেন এবং তার জন্য পাগল ছিলেন।

“সে সম্ভবত আমার দেখা একমাত্র ব্যক্তি (ডেনলি) যার জন্য সে (প্যাডক) তার নিজস্ব ধরন থেকে বের হয়ে অল্প কিছু হলেও করেছে,” বলেন এরিক।

৬২ বছর বয়সী ডেনলি একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক যার জন্ম ফিলিপিন্সে বলে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।

১৯৮০-র দশকে এক অস্ট্রেলীয়কে বিয়ে করে তিনি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে প্রায় ১০ বছর বসবাস করেছেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসে গ্যারি ডেনলি নামের এক মার্কিনিকে বিয়ে করেন। ২০১৫ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

এরপর ক্যাসিনোর কর্মী হিসেবে কাজ করার সময় নেভাদার এক ক্যাসিনোয় স্টিভেন প্যাডকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে ধারণা করা হয়।

এরপর থেকে তিনি নেভাদায় প্যাডকের সঙ্গে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য