দেহঘড়ির আণবিক সূত্র উদঘাটন করে নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিজ্ঞানী।

সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট সোমবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে চলতি বছরের বিজয়ী হিসেবে জেফ্রি সি হল, মাইকেল রসবাস এবং মাইকেল ডব্লিউ ইয়ংয়ের নাম ঘোষণা করে।

মানুষসহ সকল প্রাণী ও উদ্ভিদের সকল জীবিত কোষ যে সময়সূত্র মেনে চলে বিজ্ঞানীরা তাকে বলেন সার্কেডিয়ান রিদম। এই দেহঘড়ির কারণেই আমরা রাতে ঘুমাতে চাই; দীর্ঘ সময় বিমানভ্রমণের পর দিন-রাতের হিসেবে গড়বড় হলে শরীরেরও মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়।

আমাদের মনোভাব, হরমোনের মাত্রা, দেহের উষ্ণতা এবং সার্বিক বিপাকীয় কার্যাবলীর ওপর এই সার্কেডিয়ান রিদমের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে।

ক্রোনোবায়োলজি বা দেহঘড়ির বিজ্ঞান এখনও বিকাশমান একটি গবেষণার ক্ষেত্র। এ বিষয়ে মানুষ যা যা জানতে পেরেছে, তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এ বছরের নোবেল পাওয়া তিন বিজ্ঞানীর।

আশির দশকে মাছির ওপর গবেষণা করে তারা সেই জিনটি আলাদা করেন, যা সময় মেনে দৈনন্দিন জৈবিক কর্মকাণ্ডের ছন্দ বজায় রাখে। গবেষণায় তারা দেখতে পান, ওই জিনটির কারণে কেমন করে রাতের বেলায় বিশেষ এক ধরনের প্রোটিন জমা হচ্ছে, আবার দিনের বেলায় তা মিলিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রক্রিয়ায় আর কোন কোন জিনের ভূমিকা আছে, তা জানা যায় পরবর্তী গবেষণায়। সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন ইনসমনিয়া সারাতে, ওষুধ খাওয়ার সঠিক সময়টি জানতে এবং স্বাস্থ্যসম্মত নিদ্রাভ্যাসের কৌশল ঠিক করার চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য