মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁও শহর সংলগ্ন টাঙ্গন নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে গাছের ডাল পালা, ঝাড়-জঙ্গল ও বাঁশ ঝাঁড় ফেলে মাছের আবাসস্থল গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, মাছ ধরার জন্য এক শ্রেণির মানুষ এসব করছেন বলে এলাকার লোকজন জানান।

তারা ফায়দা লুটতেও এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে ভয়াবহভাবে। এসব ঝাড়-জঙ্গলে ময়লা আবর্জনা, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, খড়কুটোসহ নানা বর্জ্য আটকে গিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পানি দূষিত হচ্ছে ও আশে পাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাছাড়া শহরের সৌন্দর্য বর্ধক এই টাঙ্গন নদী হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদীর মুন্সিপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, শাহাপাড়া এলাকায় কিছু লোক নদীর এপার-ওপারের প্রায় সম্পূর্ণ অংশের পানিতে যে যার ইচ্ছে ও সুবিধা অনুযায়ী বাঁশের ঝাঁড় ফেলে মাছের আবাসস্থল বানিয়ে রেখেছে।

শুধু তাই নয়, তারা ওইসব ঝাঁড়ের নীচে মাছের টোপ হিসেবে গরু-ছাগলের ভুড়ি-মুরগির লিটারসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি ফেলে রাখছেন। এতে এলাকায় প্রচন্ড র্দূগন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে ফলে আশপাশে বাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তারা মাছ শিকার করলেও নদী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

একদিকে নদীতে ময়লা-আবর্জনা আটকে নদীর পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ছে অন্যদিকে এগুলি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অবৈধভাবে নদীতে ঝাড় জঙ্গল ফেলে তারা নদীর এই অংশটিকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করছে। আশপাশে এলাকার আর কাউকে জাল ফেলতে বা বরশি দিয়ে মাছ শিকার করতে দিচ্ছেনা। ফলে ঝাড়ের লোকজন ও মাছ শিকারিদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। শাহাপাড়া এলাকায় এধরনের ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি। নদীতে এই ধরণের অপতৎপরতা বন্ধ করতে কয়েকদিন আগে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কাছে গণপিটিশন দিয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, তারা কোন প্রতিকার পাননি।

তারা জানান, এলাকার কতিপয় ব্যক্তি দাপট খাটিয়ে একের পর এক নদীতে ঝাঁড় জঙ্গল ফেলে বিশাল এলাকা জুড়ে নদী ও এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছেন। এব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকির মুখে পড়তে হয়। তাই এখন তেমন আর কেউ প্রতিবাদ না করায় নদীতে এভাবে অবৈধভাবে মাছের আবাস তৈরির নামে পরিবেশ দূষন বেড়েই চলেছে।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা ছাড়া কোন নদীতে ঝাঁড় ফেলে মাছের আবাস তৈরি করা এবং এসব আশ্রমে মাছের টোপ হিসেবে অখাদ্য-কুখাদ্য ও বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষেধ রয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই প্রশাসনের সহযোগিতায় এই অপতৎপরতা বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য