মোঃ আবেদ আলী, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকেঃ বীরগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ লাখ মানুষের বিপরিতে ১জন ডাক্তার চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর, ভোগনগর, সাতোর, মোহনপুর, মরিচা ইউনিয়ন সমুহের ৯৯টি ওয়ার্ড ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডসহ ১০৮টি ওয়ার্ডের ৬১৯ বর্গ কিলোমিটার ৩৪০টি মৌজায় পুরুষ ও মহিলা সহ মোট ৩,৪৯,৬৮৪ জন মানুষ রয়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২৯ জনের স্থলে ৩জন ডাক্তার চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১শয্যা থেকে বর্তমান সরকার ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নিত করেছে। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে ২৯ জন ডাক্তার থাকার কথা কিন্তু সে স্থলে ৩ জন ডাক্তার রয়েছে। উপজেলার পাল্টাপুর ও মোহাম্মদপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, নিজপাড়া, ভোগনগর, সাতোর, মোহনপুর, মরিচা ইউনিয়ন সমুহের একজন করে মোট ১০জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে শুন্য রয়েছে।

অত্যাধুনিক হাসপাতালে ১৯জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ৩জন ডাক্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ফুটবল খেলার ২২জন খেলোয়ারের মধ্যে ৩জন বলটি নিয়ে গোটা মাঠে দৌড়-ঝাপ করার মত ঘটনা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এই ৩জন ডাক্তার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, হাসপাতালের ইনডোর রোগিদের-আউটডোরে রোগিদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। এই ৩ জন ডাক্তার আবার সিজার ডেলিভারীকে না বলুন এবং নরমাল ডেলীভারীকে হাঁ বলুন স্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডাক্তার নার্স ও কর্মচারী একযোগে কাজ করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ২৯ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বাস্তবে রয়েছে ৩ জন তদুপরি সরকারী কাজ থেমে নেই, নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে ডাক্তারা কাজ করছে। তিনি বলেন, গত মাসে ৪০জন ও চলতি মাসে ৩০জন গর্ভবতী প্রসুতির নিরাপদে ও বিনা খরচে নরমাল ডেলিভারী করা হয়েছে।

ডাক্তার সংকটের বিষয়ে তিনি আরো জানান, প্রতিবেদনের ডাক্তার সংকটের বিষয়টি উদ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ চিকিৎসার ক্ষেত্রে গর্ভবতী মা ও বীর-মুক্তিযোদ্ধা রোগিদের এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ফ্রি করে দিয়েছে সরকার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য