সৈয়দপুর ৫০ শয্যা হাসপাতাল। দীর্ঘ কয়েক যুগ পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। এরপর হাসপাতালে বেড়েছে অন্যান্য সুবিধা তবে জনবল সংকট এখনও বিরাজ করছে। বর্তমানে অপারেশন থিয়েটার চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। জানা যায়, ১৯৬৫ সালে শহরের কুন্দল পুর্বপাড়া এলাকায় প্রায় ৭ একর জমির ওপর সৈয়দপুর হাসপাতালটি ৫০ শয্যার সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু। ডাক্তার, নার্স, অফিস স্টাফ ও অন্যান্য মিলে নিয়োগ দেয়া হয় ৭৫ জন জনকে।

মেডিকেল অফিসার, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা নাক-কান, বিশেষজ্ঞ সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, গাইনি, ডেন্টাল, ডাক্তার মিলে ১৩ জন ডাক্তার নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আর্থিক সহায়তায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ডাক্তারসহ সকল স্টাফদের জন্য বহুতল ভবন, ডরমেটরি, র‌্যাম বিশিষ্ট নতুন চার তলা হাসপাতাল ভবন। পুরাতন সব কিছু সংস্কার ও দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ পথ নির্মাণ করা হয়। দেয়া হয় পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ। তবে ঘাটতি রয়ে যায়। দামি সব যন্ত্রপাতি থাকা সত্বেও চিকিৎসকের অভাবে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকে। আর যথাযথ পদে চিকিৎসক না থাকায় অনেক সেবা এ হাসপাতালে আর মেলে না।

তবে কতৃপক্ষের জোড় তৎপরতায় আবারো সরগরব হয়ে উঠেছে এ হাসপাতাল চত্বর। গত ২৬ সেপ্টেম্বর অপারেশন থিয়েটার চালু হওয়ায় চিকিৎসায় আবারো নতুন মাত্রা যোগ হলো। ওই দিন হাসপাতালটির অপারেশন কার্যক্রমের উদ্বোধনে রংপুর বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মোঃ মোজাম্মেল হক, নীলফামারী সিভিল সার্জন রঞ্জিক কুমার বর্মন, সৈয়দপুর হেলথ কমপ্লেক্সের পরিচালক ডাঃ সিরাজুল ইসলাম, হাসপাতালটির আরএমও ডাঃ মোঃ আরিফুল হক সোহেল, এথেনসিয়া চিকিৎসক ডাঃ তাইফুর রহমান ও গাইনি বিশেষজ্ঞ সার্জারী ডাঃ আ.শ শামছুন্নাহার উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, নিজস্ব ৭জন আর ডেপুটিশনের ৪ চিকিৎসক দিয়ে এ হাসপাতাল চলছে।

আর অন্যান্য পদ মিলে ৫০ শয্যার জনবলের ১৯ জন নেই। এতে ১০০ শয্যার জন্য দ্বিগুন জনবলের প্রয়োজন। এ ছাড়া ইসিজি, এক্সরে, রক্ত, মল, মুত্র পরীক্ষা সরকারের দেয়া ফি নিয়েই দেয়া হচ্ছে। সৈয়দপুর ১০০ শয্য হাসপাতালের আরএমও ডাঃ আরিফুল হক বলেন, আমরা ৫০ শয্যার ঘাটতি জনবল দিয়ে ১০০ শয্যার রোগীর সেবা দিয়ে আসছি। অন্যান্য ঘাটতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নীলফামারী সিভিল সাজর্ন ডাঃ রঞ্জিত কুমার বর্মন বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদানে কোন বাণিজ্য না হয় আর আগতরা যাতে সরকারের দেয়া সেবাটুকু শতভাগ পায় সে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আর ঘাটতি জনবল বিষয়ে যথাযথ কতৃপক্ষ নিয়োগ দিলেই সব পূরণ হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য