আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ বিশেষ করে সন্ধ্যা বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গাইবান্ধা জেলায় শারদীয় দুর্গাপুজায় দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মন্দির ও মন্ডপগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ে জেনারেটর বসিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। এতে করে নারী দর্শনার্থীরা নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে।
এমনিতেই গাইবান্ধা জেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আশ্বিনের এই গরমে জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তার উপর দুর্গাপুজা শুরুর দিন থেকেই প্রতিদিন সন্ধ্যে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সাড়ে ৪ ঘন্টায় নিয়মিতভাবে কমপক্ষে দু’ঘন্টা করে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এছাড়াও আড়াই ঘন্টার মধ্যে স্বল্প সময়ের মধ্যে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট লেগেই আছে। এতে পুজা মন্ডপগুলোর মনোরম আলোকসজ্জা ভেস্তে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ না থাকায় নিরাপত্তা সংকটে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দে পুজা দর্শনে আনন্দ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এদিকে সন্ধ্যায় এহেন লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালের মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, পিক আওয়ারটিতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়ার কারণে গাইবান্ধায় চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণেই লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সুত্র থেকে তাকে জানানো হয়েছে। তবে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গাইবান্ধা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি জনিত বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এ অবস্থা বিরাজ করছে। গাইবান্ধায় পিক আওয়ারে প্রতিদিন ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু এখন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ মেগাওয়াট। শুধু গাইবান্ধা জেলাতেই নয় গোটা উত্তরাঞ্চলেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। এই বিদ্যুৎ সংকট আরও দু’সপ্তাহ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য