উলিপুরে এলজিইডির পল্লী রক্ষানাবেক্ষন প্রকল্পের সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুনীতি ও নিম্নমানের কাজ করায় মেরামতের ২/৩ মাসের মধ্যে রাস্তা গুলোর উপরি ভাগের পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলেও তা পুর্নঃ মেরামত না করেই কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বিল ও জামানতের টাকা তুলে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উলিপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের পল্লী রক্ষনাবেক্ষন প্রকল্পের আওতায় ২০১৫/১৬ আর্থিক বছরে ৬টি সড়ক মেরামতে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে দুর্গাপুর- নাজিমখান জিসি সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয় ৪৯ লাখ ৫৮হাজার টাকা,উলিপুর বজরা রোড়-তেতুলতলা সমিতির হাট সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয় ৫৯ লাখ ১১হাজার,উলিপুর নাজিমখান রোর্ড-দলদলিয়া সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয় ৪২লাখ৭৪ হাজার,উলিপুর- ফকিরের হাট সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয় ২৯লঅখ২১হাজার,উলিপুর এম এস স্কুল-বামনের হাট সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয় ৩১লাখ ২৫ হাজার,উলিপুর -অনন্তপুর জিসি সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয় ৭৪লাখ৪২হাজার টাকাএবং ২০১৬/১৭ আর্থিক বছরে ৫টি সড়ক মেরামতে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে উলিপুর-ধামশ্রেনী সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয় ১৮লাখ৬৯হাজার,উলিপুর-ফকিরের হাট সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয়-১৭ লাখ,দুর্গাপুর-মন্ডলের হাট সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয়-৪১লাখ,কুড়িগ্রাম-মন্ডলেরহাট সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয়-৩৬ লাখ,উলিপুর বজরা রোড়-তেতুলতলা সমিতির হাট সড়ক মেরামত প্রাকলন ব্যয়-৩০ লাখ৩০হাজার টাকা।

কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে ২ দফায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি সড়কের ৪২২৪২ মিঃ সড়ক মেরামতের জন্য দরপত্র আহবান করলে একশ্রেনীর অসাধু ঠিকাদাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ গুলো বাগিয়ে নিয়ে ছোট ছোট ঠিকাদারদের নিকট বিক্রি করে দেন। ক্রেতা ঠিকাদাররা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সিডিউল বর্হিভুত ভাবে এষ্টিমেট অনুযায়ী বাংলাদেশী/ইন্দোনেশিয়ান পিচ,৬মিলি,১০মিলি,১৬মিলি পাথর ও ডাষ্ট(পাউডার) ব্যবহার করে পিচের আস্তর তৈরী করে ২৫ মিলি উচ্চতা দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ১২-১৫ মিলি এবং নিষিদ্ধ ইরানি পিচ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফলে সড়ক গুলো মেরামতের ২/৩ মাস পরেই পিচের আস্তর উঠে ও ফেঁটে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু কন্ট্রাক রুল অনুযায়ী মেরামতের ১ বছরের মধ্যে সড়ক ভেঙ্গে বা পিচের আস্তর উঠে গেলে তা পুনরায় মেরামত করে দিতে হবে। অন্যথায় তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। কিন্তু উল্ল্যেখিত সড়ক গুলো কাজ করার ২/৩ মাসের মধ্যেই ভেঙ্গে ও পিচের আস্তর উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলে ও তা পুনরায় মেরামত বা ঠিক না করেই বিল ও জামানতের টাকা প্রভাব খাটিয়ে তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।ফলে বিল প্রদানে পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ সড়ক গুলো পুর্ন মেরামতের জন্য কয়েক দফা করে চিঠি দিলেও ঠিকাদাররা পাত্তা দিচ্ছে না। তাই বিষয়টি শুধূ চিঠি দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। মেরামতের ৩ মাসের মধ্যে নষ্ঠ হয়ে গেছে,উলিপুর-ফকিরের হাট সড়ক,উলিপুর ধামশ্রেনী সড়ক ও কুড়িগ্রাম-মন্ডলেরহাট সড়ক মেরামতের এক মাসের মধ্যেই পিচ উঠে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আলী আফছার সহ একাধিক সহকারী প্রকৌশলী জানান ঠিকাদাররা তাদের ইচ্ছামাফিক সিডিউল বর্হিভুত নিম্নমানের কাজ করছে অনেক বলার পরেও তা আমলে নিচ্ছে না। সড়ক মেরামতকারী ঠিকাদাররা জানায় ৩০%লেচের উপর অতিরিক্ত ১০% দিয়ে কাজ কিনে নিতে হচ্ছে এরপর অফিস ও নিজ খরচ বাদ দিয়ে প্রাকলন মুল্যের বাকী টাকা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। শীতল কনষ্ট্রাকশনের মালিক মামুন জানান, যে হেতু তারা সরাসরি কাজ পাচ্ছেন না তাই লাভ লচ যাই হউক শুধু লাইন্সেস রক্ষার জন্য তারা বাধ্য হয়ে কাজ করছেন।

উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান কুড়িগ্রাম নির্বার্হী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে টেন্ডার ও বিল প্রদান করা হয়। আমাদের শুধু কাজ বুঝে নেয়ার দায়িত্ব। বিল ও জামানত ফেরতের বিষয় নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে প্রদান করা হয়। নষ্ট হওয়া সড়ক গুলো পুর্নঃ মেরামতের জন্য চিঠি দিলে ঠিকাদাররা কোন সাড়া দিচ্ছে না।

কুড়িগ্রাম প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ মোঃ আবদুল আজিজ জানান, ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজ করার চেষ্টা করলে ও আমরা তা মানছি না বার বার তাগিদ দিয়ে হলে ও তা ঠিক করানোর চেষ্টা করানো হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য