আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: নারী জগতের একজন গর্বিত নারী সাথিরা জাকির জেসি। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন ক্রিকেটার হওয়ার। শচীন টেন্ডুলকার ব্যাটিংয়ে নামলে টেলিভিশনের সামনে থেকে তাঁকে সরানোই যেত না। কিন্তু সাথিরা জাকিরের জন্য তত দিনে মঞ্চটাই তৈরি হয়নি। হবে কী করে? বাংলাদেশে যে তখনো মেয়েদের ক্রিকেটই চালু হয়নি। সেটা প্রায় আজ থেকে ১০-১২ বছর আগের কথা। কিন্তু এখন পরির্বতন ঘটেছে।

ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেয়েরাও সমানে ক্রিকেট খেলছেন। সাথিরা জাকির সেই দলেরই একজন। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো গড়া বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন উত্তর জনপদের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার নারীদের গর্বিত ক্রিকেটার সাথিরা জাকির।

ক্রিকেটটা তাঁর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল অনেক আগেই। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সঙ্গে খেলতেন। এ জন্য কম কথা শুনতে হয়নি পাড়া প্রতিবেশির কাছ থেকে। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন মনের মধ্যে পুষে রেখেই একদিন এলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপিতে। কিন্তু মেয়েদের ক্রিকেট শুরু হয়নি বলে বাধ্য হয়ে ভর্তি হলেন শুটিংয়ে। এই খেলা তাঁকে টানছিল না। এরই মাঝে একদিন খবর পেলেন ঢাকায় মহিলা ক্রিকেট দল গড়া হবে।

ধানমন্ডি সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দেখা হলো ঢাকা জেলার কোচ পারভিন নাহরের সঙ্গে। তাঁকে ইচ্ছাটা জানাতেই, বললেন, ‘তুই কি ক্রিকেট খেলতে পারবি?’ মনের গহিনে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছাটা যেন ডানা মেলার সুযোগ পেল। প্রথমে জাতীয় নারী ক্রিকেট লিগে খেললেন সাথিরা জাকির । অলরাউন্ডার হিসেবেই জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন।

২০০৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষার সময় সাথিরা জাকির জানতে পারেন, ঢাকায় মেয়েদের একটি ক্রিকেট লীগ শুরু হবে। তখন তিনি ঢাকা জেলা মহিলা ক্রিকেট দলে নাম লেখালেন। সে লীগে ভালোই পারফর্ম করেছিলেন। এরপর জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয় তাঁর। কিন্তু পরিবারের ইচ্ছা ছিল ভিন্ন ধরণের। সাথিরা জাকিরের মা-বাবা চেয়েছিলেন তিনি যেন ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু সাথিরা চেয়েছিলেন পড়াশুনার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলায় মনোনিবেশ করতে।

২০১৬ সালে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন। সাথিরা জাকির বলছিলেন, তাঁর বিয়ে হওয়ার পর থেকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে তিনি আর ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। “একটা মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবার পর সে ক্রিকেট খেলবে, এ বিষয়টা অনেকই সহজভাবে নেয় না।”

২০১৪ সালে আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ট্রফি হাতে সাথিরা বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলে একজন ভারতীয় নারী কোচ এসেছিলেন। সাথিরার বিয়ের পর সে নারী কোচ তাঁকে দল থেকে বাদ দেন। অজুহাত হিসেবে সাথিরার বিয়ের বিষয়টি সামনে এসেছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। ভালো খেলা দেখিয়ে তিনি আবারো জাতীয় দলে ফিরে আসেন।

বিয়ের পর এক সন্তানের জননী সাথিরা তাঁর খেলা চালিয়ে গেছেন। একই সাথে তিনি ক্রিকেটের কোচ হিসেবে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় ক্রিকেট কোচিং এবং ক্রিকেট বিষয়ক অনুষ্ঠান করেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য