আনোয়ার হোসেন আকাশ রানীশংকৈল থেকেঃ ঠাকুরগায়ের রানীশংকৈল উপজেলায় ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ৫মাসের অন্তসত্তা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি উপজেলার ৩নং হোসেনগাঁও ইউপির উত্তরগাঁও(রামরায় পার্ক সংলগ্ন) গ্রামে ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটিয়েছে একই গ্রামের সামশুল আলমের ছেলে সবুর (২০) বলে অন্তসত্তা মেয়েটির বরাত দিয়ে জানান তার পিতা দিনমজুর মতিউর রহমান।

বর্তমানে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রভাবশালী ছেলে পক্ষ মেয়ে পরিবারটিকে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকি ধুমকি দিয়ে আসছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও সামাজিকভাবে কয়েকদফা বৈঠক হলেও ছেলে পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টিকে তারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল ভাবে দেখার কারনে সামাজিকভাবে কোনই সমাধান আসেনি বলে জানান এলাকাবাসী।

সরজমিনে গিয়ে উত্তরগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী জনৈক(১২) অন্তসত্তা মেয়েটির সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার সাথে সবুর জোর পূর্বক মেলামেশা করেছে। এই মেলামেশা করার কথা যদি আমি আমার বাবা মাকে বলি তাহলে সে নাকি আমাকে মেরে গুম করে ফেলবে এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতো।

এ কারনে ভয়ে আমি কাউকে বলে নি। মেয়েটির পিতা মতিউর জানান পাশ্ববর্তী মহিলারা বেশ কয়েকদিন ধরেই আমার মেয়ের চলাফেরাই পরিবর্তন দেখছে বলে আমার স্ত্রীকে জানাই তারা এও জানায় আমার মেয়ের পেট অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাচ্ছে পেটে টিউমার হয়েছে নাকি এ জন্য আল্টাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেয়। তাই আমি সম্প্রতি শিবদিঘী হাজ্বী ক্লিনিকে আমার মেয়েকে নিয়ে আল্ট্রা সনোগ্রাম করাই। সেখানে কর্তব্যরত কতৃপক্ষ রিপোট দিয়ে জানাই আপনার মেয়ে প্রায় ৫মাসের অন্তসত্তা হয়ে রয়েছে।

এ কথা শুনার পরে আমি চমকে উঠি সাথে সাথে আমার মেয়ের কাছে জানতে চাই কে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সে ভয়ে আমাকে ভয়ে সেখানে কিছু বলে নি। পড়ে বাড়ীতে এসে তার দাদীর কাছে স্বীকার করে যে আমার গ্রামের সামশুলের ছেলে সবুর এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অন্তসত্তা মেয়েটির পিতা মতিউর রহমান বলেন. আমার মেয়ের ভবিষ্যাৎ নিয়ে আমি শংকায় রয়েছি এমনিতেই নাবালক মেয়ে বয়স কম আবার ৫মাসের গর্ভধারন করেছে কি হবে আমার মেয়ের আমি জানি না।

আমি কি গরিব হওয়ায় আমার এই নাবালক মাসুম মেয়েটির সাথে যে অমানবিক কাজ করা হয়েছে এর বিচার পাবো না। মতিউর রহমান আরো বলেন, আমি গরিব মানুষ দিন আনি দিন খায় আমি কি মামলা মোকদ্দমার খরচ চালাতে পারবো আমার কথা কি থানা প্রশাসন শুনবে তাই তিনি সংবাদকর্মীদের নিকট সহযোগিতা চান এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নিকট সরজমিনে তদন্ত করে হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নাম না প্রকাশে অনইচ্ছুক ঐ গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন,আমরা প্রায় লক্ষ করতাম এই মেয়েটির সাথে বিভিন্ন সময় সবুর আড়ালে ডেকে নিয়ে কথা বলতো।

এখন এমন ঘটনা ঘটিয়ে মেয়েটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দিয়ে সবুর ও তার পরিবার বিষয়টিকে প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এবং বেশি বারাবারী করলে কি করার আছে মেয়ে পক্ষের সেটা তারা দেখতে চাই বলে মাঝে মধ্যেই হুমকি দিয়ে আসছে সবুরের পরিবার। এদিকে অন্তসত্তায় অভিযুক্ত সবুরকে না পেয়ে বড় ভাই ইকবালের কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে তার ভাই ঘটনা ঘটায়নি জানিয়ে বলেন,তারপরও আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছি দেখা যাক কি করা যায় বলে মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে ৩নং হোসেনগাওঁ ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বিষয়টি আমি শুনেছি ঘটনাটি এমন যে আমার কাছে সামাজিকভাবে সমাধান অযোগ্য তাই বিষয়টিতে আমি সেভাবে হস্তক্ষেপ করি নি। তবে আমি চাই অসহায় এই নাবালক মেয়েটি সঠিক বিচার পাক।আমার পক্ষ থেকে মেয়েটি ও তার পরিবারের জন্য সার্বিক সহযোগিতা অব্যহত থাকবে।

অফিসার ইনর্চাজ আব্দুল মান্নান বলেন এ ধরনের কোন ঘটনার কথা আমি জানি না এবং কি অভিযোগও আসে নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য