পার্বতীপুর উপজেলার সর্বত্র গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অধিক মুল্যেও গরুর প্রধান খাবার খড় পাওয়া যাচ্ছে না। কোন উপায় না পেয়ে গরুর মালিকেরা কচুড়ি পানা, বাঁশ পাতা ও লতা পাতা সংগ্রহ করে গবাদী পশুকে খাওয়াচ্ছেন।

অপুষ্টিতে ভুগছে উপজেলার লাখ লাখ গরু-ছাগল। গো-খাদ্যের অগ্নিমূল্যে কৃষক ও গৃহস্থরা তাদের পশুসম্পদ নিয়ে চোখে-মুখে শর্ষে ফুল দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অতি বৃষ্টি ও উপজেলার ১০ ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বন্যায় কৃষকদের সংরক্ষিত গরুর খাদ্য খড় সম্পুর্ন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে গৃহস্থালিরা গরু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এ দ্রব্যমূল্যের বাজারে গরু-ছাগল বাঁচাতে পারবেন না এ আশঙ্কায় অনেকে পানির দামে গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন।

উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের অনিল কুমার বলেন, বন্যায় সংরক্ষিত গরুর খাদ্য খড় সম্পুর্ন নষ্ট হয়ে যায়। ১ মণ খড়ের দাম ৪শ` টাকা। ভুসির কেজি ৩০টাকা, চিটাগুড়, ধানের গুড়া, ফিট, খুদি ও খৈলসহ সব উপাদানের বাজারে আগুন। এ বাজারে নিজেরাই খেয়ে বাঁচতে পারছি না, গরু-ছাগলকে কী খেতে দেব? গরু-ছাগলগুলো খাবারের অভাবে রোগা হয়ে মরতে বসেছে। অনেকে পানির দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

চন্ডিপুর ইউনিয়নের ঝাড়-য়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, দ্বিগুন দামেও গো খাদ্য মিলছে না। বাজার থেকে গরুর খাদ্য কিনতে না পারায় খামারীরা কম দামে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। শহরের বুড়াহাটে গো হাটে গিয়ে দেখা যায়, কম দামে গরু বিক্রি করে বাড়িতে ফিরছেন কৃষক আঃ রশিদ মিয়া। তিনি বলেন, চাল কিনে নিজেরা ভাত খাব না গরুর খাদ্য কিনবো।

শহরের পুরাতন বাজার হাটে খড় বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, জেলার চিরিরবন্দর থেকে খড় কিনে এনে পার্বতীপুরে বিক্রি করছেন। প্রতি পোন (৮০টি আটি) খড় ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ভ্যান খড় ১ হাজার থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় খড়ের দাম এবার বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খাল বিল থেকে কচুড়ি পানা সংগ্রহ করে গো-খাদ্যের অভাব মেটালেও রোগ ব্যাধির ভয়ে বেশিদিন এটির উপর নির্ভরশীল হতে পারছেন না বলে জানালেন, উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কালাই ঘাঁটি গ্রামের খামারী শফিকুল ইসলাম।

পার্বতীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আঃ রাজ্জাক বলেন, গো-খাদ্যের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, গো-খাদ্য সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বিনামূল্যে গো-খাদ্য বিতরণ করা হবে। ২-১ মাসের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য