মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরেও শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বিদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসব দুর্গাপূজা। দিনাজপুর জেলায় এবারে ১২৪২টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি পূজামন্ডপে দুর্গা দেবীকে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করতে প্রতিমা শিল্পীরা তাদের নিপুণ হস্তে সাজিয়ে তুলেছেন প্রতিমা। মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেবী বোধনের মধ্যে দিয়ে এই ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজার অুনষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে এবং আগামী ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

দিনাজপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলায় এবারে ১২৪২টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫৪টি মন্ডপ, বিরলে ৯৫টি, বোচাগঞ্জে ৯৩টি, কাহারোলে ৯৭টি, বীরগঞ্জে ১৫২টি, খানসামায় ১১৬টি, চিরিরবন্দরে ১৪১টি, পার্বতীপুরে ১৮০ট, ফুলবাড়ীতে ৫২টি, বিরামপুরে ৩৬টি, নবাবগঞ্জে ৭০টি, হাকিমপুরে ২০টি ও ঘোড়াঘাটে ৩৬টি পুজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত। তবে ১২৪২টি পুজা মন্ডপের মধ্যে ৩৮টি মন্ডপে পারিবারিবভাবে পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ জেলার সকল মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠানের লক্ষে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭ হাজারের অধিক সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে পুলিশ বাহিনীর প্রায় ৮শ’ জন সদস্য এবং আনসার বাহিনীর ৪ হাজার ৪৪৮ জন সদস্য রয়েছে। আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যদের টহল এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের অভিযান টিম সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করবে।

এসব মন্ডপের মধ্যে ২৬০টি মন্ডপ অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৩২২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬১৮ সাধারণ পুজামন্ডপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৫০টি মন্ডপে পারিবারিক উদ্যোগে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মন্ডপে বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব পূজা মন্ডপে ৬ হাজার ৪৮৪ আনসার সদস্যসহ প্রায় ৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি মন্ডপে ৬-৮ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। জেলার ১৩ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে ২৬টি ভ্রাম্যমান আদালত বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যদের নিয়ে টহলে থাকবেন। এছাড়া ২ প্লাটুন র‌্যাব ও ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, দূর্গা পুজা উপলক্ষে জেলা পশাসক কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সার্বক্ষনিক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। পুজা চলাকালিন সময়ে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে দিনাজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বরুপ কুমার বক্সী বাচ্চু জানান, দর্শনার্থীদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা দর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করার লক্ষ্যে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সর্বস্তরের নাগরিকদের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য