সাইমন সাদিক। বর্তমানে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করছেন। ২০১২ সালে জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় ‘জি¦ হুজুর’ ছবি দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় ‘পোড়ামন’ ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি দর্শকপ্রিয়তা পান।

এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন মাহিয়া মাহি। এরপর ‘স্বপ্নছোঁয়া’, ‘রানা প্লাজা’, ‘অ্যাকশন জেসমিন’, ‘মাটির পরী’, ‘চোখের দেখা’, ‘ব্ল্যাকমানি’, ‘তুই শুধু আমার’, ‘মায়াবীনি’, ‘অজান্তে ভালোবাসা’, ‘চুপি চুপি প্রেম’, ‘পুড়ে যায় মন’, ‘নদীর বুকে চাঁদ’সহ বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করেন।

অনেকদিন পর আবারো মাহির সঙ্গে জুটি হয়ে বড় পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। এবারের ছবির নাম ‘জান্নাত’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। এ ছাড়া সাইমন অভিনীত ও সারোয়ার হোসেন পরিচালিত ‘খাসজমিন’ ছবিটিও আগামি মাসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এ দুটি ছবি নিয়ে বেশ আশাবাদী তিনি। তবে পছন্দের তালিকায় কোন ছবিটিকে নিজে এগিয়ে রাখবেন জানতে চাইলে সাইমন বলেন, দুটি ছবির গল্প দুই ধরনের। একদিকে ‘জান্নাত’ ছবিতে আমাকে দর্শক একজন সন্ত্রাসীর চরিত্রে আর অন্যদিকে ‘খাসজমিন’ ছবিতে একজন ভূমি কর্মকর্তার ভূমিকায় দেখবেন দর্শক। ‘জান্নাত’ ছবির পরিচালক মানিক ভাই একজন ভালো নির্মাতা।

আর ছবিতে নায়িকা হিসেবে রয়েছে মাহি। তাই দর্শক চাহিদায় এ ছবিটি এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, সারোয়ার ভাইয়ের ‘খাসজমিন’ ছবির গল্পটিও দারুণ। আর দুটি ছবির গল্পই মৌলিক। অভিনেতা হিসেবে দুটি ছবির গল্প পছন্দ হয়েছে বলেই আমি সেসবে অভিনয় করেছি। দুটি ছবি নিয়েই আমি বেশ আশাবাদী। নিজেকে এখনও সফল অভিনেতা হিসেবে ভাবতে রাজি নন সাইমন। তার ভাষ্য, অভিনেতা হিসেবে আমি একশ’র মধ্যে নিজেকে দশ এর বেশি দিব না। অভিনয় এত সহজ বিষয় না। আমি প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করছি। আর যেভাবে ভাবি সেভাবে এখনও ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে পারিনি। চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাইমন। তবে তিনি মনে করেন শিক্ষার কোনো শেষ নেই, জানার কোনো সীমারেখা নেই। অভিনয়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে ‘সার্টিফিকেট কোর্স ইন অ্যাকটিং’ বিষয়ে রাজধানীর গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছেন এ অভিনেতা।

সেখানে একটা শর্ট কোর্স করবেন। বর্তমানে সাইমন শাহীন সুমন পরিচালিত ‘মাতাল’ ছবিতে কাজ করছেন। এ ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা একটা ভিন্ন আবহের গল্প। ছবিতে আমার বিপরীতে দুই নায়িকাকে অভিনয় করতে দেখবেন দর্শক। তারা হলেন অধরা খান ও অরিন। এদিকে দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়টা ভালো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন প্রযোজক ও নির্মাতারা। সেই দিক দিয়ে সাইমন অভিনীত ছবিগুলো সামনে দর্শক কতটুকু গ্রহণ করবেন বলে তিনি মনে করেন জানতে চাইলে বলেন, চলচ্চিত্রবিষয়ক সমস্যা তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলোর সমাধানও হয়ে যাচ্ছে। আমি সবসময়ই এই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আশাবাদী। প্রতিদিনই নতুন ছবির খবর দিচ্ছেন অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী। সেই দিক থেকে কি সাইমন পিছিয়ে রয়েছেন? এর উত্তরে এই অভিনেতা বলেন, আমি চাইলেই দশটা ছবিতে সাইন করতে পারি।

সাইন করা ছবিও অনেক সময় থেমে যায়, শুটিং শুরু হয় না। সেই ধরনের ছবিতে সাইন করে কি হবে? ছবি চুক্তির আগে তাই ঢোল পিটিয়ে লাভ নেই। ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে আমি আলোচনায় থাকতে চাই না। বুঝেশুনে ভালো কিছু ছবিতে কাজ করতে চাই। এদিকে বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহ নিয়েও এক ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহে ছবি মুক্তি দিতে গিয়ে মেশিন ভাড়া, পাইরেসিসহ সেখানকার পরিবেশ নিয়েও নানা অভিযোগ শোনা যায়। এসব বিষয়ে সাইমন এক কথায় বলেন, প্রেক্ষাগৃহের বিষয়টি গুরুত্ব দিলে আমাদের চলচ্চিত্রের অবস্থা আরও ভালো হবে। কারণ প্রতিনিয়ত আমাদের এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আশা করি, দ্রুত এর সমাধান হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য