নির্বাচন শেষে এঙ্গেলা মের্কেল যখন তাঁর দলীয় কার্যালয়ে আসেন, সে সময় তাকে বেশ ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত মনে হচ্ছিল।

গাড়ি থেকে নেমে তিনি যখন দলীয় অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন ক্যামেরার সামনে দিয়ে হাসিমুখে এগিয়ে যান।

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে চ্যান্সেলর মের্কেল অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন। কিন্তু যেভাবে তিনি জয়লাভ করেছেন, সেটি তাঁর জন্য কাঙ্ক্ষিত ছিল না।

নির্বাচনে জয়লাভ করলেও মের্কেলের নেতৃত্বে তাঁর দল এতোটা খারাপ ফলাফল এর আগে কখনো করেনি।

১০ লাখ শরণার্থীর জন্য জার্মানির দরজা খুলে দেবার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, সেটিকে অনেকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেনি।

সেজন্য নির্বাচনের ফলাফল চ্যান্সেলর মের্কেলের আশা অনুযায়ী হয়নি।

দলীয় ফোরামে বক্তব্যের সময় চ্যান্সেলর মের্কেল বলেন, গত চার বছর তাঁরা কঠিন সময় পার করেছেন।

ইমিগ্রেশন বিরোধী দল এএফডি এ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছে। শুধু ইমিগ্রেশন বিরোধী নয়, একই সাথে এ দলটি ইউরো বিরোধী।

এ দলটি প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে যাচ্ছে এবং একই সাথে জার্মান পার্লামেন্টে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এ দলটির অন্যতম নেতা আলেকজান্ডার গুয়াল্যান্ড এখন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন,তাঁর দল মের্কেলকে তাড়িয়ে বেড়াবে।

বার্লিনের রাস্তায় একজন বলছিলেন, ডানপন্থী জাতীয়তাবাদীদের উত্থানে তিনি আতঙ্কিত।

সে ব্যক্তি বলছিলেন, “তারা হিটলারের নাৎসিদের মতো।১৯৩৯ সালে আমার জন্ম। আমি একজন যুদ্ধ শিশু। আমি তাদের ঘৃণা করি।ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আমি বেড়ে উঠেছি।আমি এঙ্গেলা মের্কেলকে চাই।”

সরকার গঠনের জন্য এঙ্গেলা মের্কেলকে রাজনৈতিক জোট গঠনের মাধ্যমে অন্য দলের সমর্থন নিতে হবে। দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে জার্মানিকে নেতৃত্ব দেবার জন্য তিনিই যোগ্য ব্যক্তি।

এঙ্গেলা মের্কেল নির্বাচনের জয়লাভ করলেও, এটা তার কাছে বিজয় উদযাপনের মতো নয়।

জার্মানির এ নির্বাচন দুটো কারণে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে।

এঙ্গেলা মের্কেল চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করলেও, তাঁর নেতৃত্বে এটি সবচেয়ে খাপর ফলাফল।

এছাড়া এ নির্বাচনের মাধ্যমে ডানপন্থী জাতীয়তাবাদীরা এখন জার্মানির একটি অংশ হয়ে গেলো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য