প্রতিবেশীদের হুমকি উপেক্ষা করে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান প্রদেশে স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐতিহাসিক গণভোট শুরু হয়েছে।

কুর্দিস্তান রিজিওনাল গভর্নমেন্টের (কেআরজি) উদ্যোগে সোমবার এ গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট কেন্দ্রগুলোর দরজা খোলা হয় এবং বিকেল ৬টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলার কথা রয়েছে। ভোট শেষ হওয়ার ৭২ ঘন্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সহজেই জয়যুক্ত হবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পক্ষে গণরায় এলেই কুর্দিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করবে এমন নয়। এই রায়ে কেআরজি-র নেতা মাসুদ বারজানি স্বাধীনতার প্রশ্নে বাগদাদ ও প্রতিবেশী অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেআরজির রাজধানী ইরবিলের এক স্কুলে পুরুষ ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রিজগার বলেন, “এই দিনটির জন্য আমরা ১০০ বছর ধরে অপেক্ষা করছি।

“আল্লাহর সাহায্যে আমরা নিজেদের জন্য একটি রাষ্ট্র চাই। আজ সব কুর্দিদের উৎসবের দিন। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা বলবো হ্যাঁ, প্রিয় কুর্দিস্তানের জন্য হ্যাঁ।”

কুর্দি হউক বা না হউক, কুর্দিস্তানের রেজিস্ট্রিকৃত সব বাসিন্দার জন্য ভোট উন্মুক্ত। উত্তর ইরাকের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সব মানুষই ভোট দিতে পারবে বলে জানিয়েছে গণভোট কমিশন।

কমিশনের হিসাবে এলাকাটির মোট ভোটারের সংখ্যা ৫২ লাখ। এদের মধ্যে প্রবাসী ভোটাররাও রয়েছেন।

ব্যালট পেপারে কুর্দি, তুর্কি, আরবি ও অ্যাসিরীয় ভাষায় ভোটারদের একটি মাত্র প্রশ্ন করা হয়েছে। প্রশ্নে বলা হয়েছে, “কুর্দিস্তান অঞ্চল ও এর বাইরের অন্যান্য কুর্দিস্তানি এলাকাগুলো নিয়ে একটি স্বাধীন দেশ হোক তা কি চান আপনি?”

এর উত্তরে হ্যাঁ অথবা না বিকল্প রাখা হয়েছে ব্যালট পেপারে, ভোটার যে উত্তরটি বেছে নিবেন তাতে টিক চিহ্ন দিবেন।

এই গণভোটের কারণে কুর্দিস্তানের সঙ্গে বাগদাদ ও ইরাকের প্রতিবেশী শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরান ও তুরস্কের বিবাদ শুরু হতে পারে আশঙ্কায় নির্বাচন বাতিল করার জন্য বারজানির ওপর প্রবল আন্তর্জাতিক চাপ আছে। ওই চাপ উপেক্ষা করেই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই গণভোটের কারণে রোববার ইরান কুর্দিস্তানমুখি এবং কুর্দিস্তান থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ করা ঘোষণা দিয়েছে।

অপরদিকে সব বিদেশি পক্ষকে কুর্দিস্তানের সঙ্গে সরাসরি জ্বালানি তেল বাণিজ্য না করার অনুরোধ জানিয়েছে বাগদাদ এবং কেআরজির কাছে তাদের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ইরান, তুরস্ক ও সিরিয়ার সঙ্গে থাকা সব সীমান্ত চৌকির নিয়ন্ত্রণ বাগদাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, “দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে কোনো নতুন গঠন ও অবস্থা পরিবর্তনকে কখনোই সহ্য করবে না তুরস্ক।”

কিন্তু ইরবিলে ভোট দিতে লাইনে অপেক্ষমান তালাত বলেন, “খারাপ পরিস্থিতি দেখেছি আমরা, অবিচার দেখেছি, হত্যাকাণ্ড ও অবরোধও দেখেছি। আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা বিশ্বের অন্যান্য লোকজনের মতো হতে চাই। আমরা স্বাধীনতা চাই এবং একটি রাষ্ট্র চাই।”

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর অটোমান সাম্রাজ্যের বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্স। এরপর তারা চলে যাওয়ার পর কুর্দিরাই সবচেয়ে বড় নৃগোষ্ঠী যাদের কোনো রাষ্ট্র ছাড়াই রেখে যাওয়া হয়েছিল। প্রায় তিন কোটি কুর্দিদের অঞ্চলটি বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রের অংশ করে দেওয়া হয়।

এদের মধ্যে ইরাক, ইরান, তুরস্ক ও সিরিয়ায়ই সবচেয়ে বেশি কুর্দি অঞ্চল পড়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য