মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ আসন্ন দিনাজপুর পৌর বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে সরব হয়ে উঠেছে নেতাকমীরা। তৈরী হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশের। দলীয় কার্যালয় নেতাকর্মীদের পদচারনায় মূখরিত হয়েছে উঠেছে। একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করছেন। যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। বাড়ী বাড়ী গিয়ে ও রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করছেন, তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

আগামী ১৪ অক্টোবর দিনাজপুর পৌর বিএনপির কাউন্সিলর অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কাউন্সিলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দুইটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চারটি পদের বিপরিতে ৩টি প্যানেলে ১০ জন প্রার্থী ও সাধারণ সম্পাদক পদে একজন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দুইজন স্বতন্ত্রসহ ১৩জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।

৩টি প্যানেলে মধ্যে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন-মান্নান প্যানেল, সিরাজ-জিয়া প্যানেল ও শাহিন খান-খোকা প্যানেল। চ্যাম্পিয়ন-মান্নান প্যানেলে সভাপতি পদে আলহাজ্ব মো. সোলায়মান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আব্দুল মান্নান সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলহাজ্ব মো. শেখ শামিম ও মোহাম্মদ আলী। সিরাজ-জিয়া প্যানেলে সভাপতি পদে মো. সিরাজ আলী সরকার, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. জিয়াউর রহমান জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. আব্দুল কাইয়ূম। আর শাহিন খান-খোকা প্যানেলে সভাপতি পদে মো. শাহিন খান, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সামসুজ্জামান চৌধুরী খোকা, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. মজিবর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আশরাফুল আলম শাবান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. তরিকুল ইসলাম বুলু ও মো. মিজানুর রহমান সাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা শোনা যাচ্ছে।

এর মধ্যে এসব প্রার্থী নিজেদের পক্ষে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে লিফলেট ছাপিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে বিতরণ করছেন। আবার কেউ কেউ দলীয় কার্যালয়সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার টানিয়ে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানান দিচ্ছেন।

চ্যাম্পিয়ন-মান্নান প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী দিনাজপুর পৌর বিএনপির বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান মোল্লা (চ্যাম্পিয়ন) পুরনায় সভাপতি পদে নিজেকে বিজয়ী করতে তাঁর ছবি সম্বলিত লিফলেট ছাপিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করছেন। ওই লিফলেটে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা-হামলা ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন।

আলহাজ্ব সোলায়মান মোল্লা (চ্যাম্পিয়ন) বলেন, আমি কারা নির্যাতিত, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সর্বাধিক মামলার শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা দেয়া হয়েছে। প্রায় ৬ মাস জেল খেটেছি। এসব মামলায় বর্তমানে জামিনে আছি। দলের যে কোন প্রোগ্রামে আমি হাজির থাকি। আমার বিশ্বাস এসব বিবেচনায় দলীয় নেতাকর্মীরা ভোট দিয়ে পুনরায় আমাকে সভাপতি পদে বিজয়ী করবে। এ পদে পুনরায় নির্বাচিত হলে আগামী দিনে দলকে আরো শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

চ্যাম্পিয়ন-মান্নান প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বর্তমান পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান সরকার (বিএসসি) বলেন, আমি আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েক দফা হামলার শিকার হয়েছি। পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। আমি দলের প্রতিটি অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রণ করে থাকি। আগামী দিনে দলের জন্য যে কোন ত্যাগ শিকার করতে প্রস্তুত রয়েছি। নেতাকর্মীরা আমাকে ভোট দিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

ওই প্যানেলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী আলহাজ্ব মো. শেখ শামিম বিগত দিনে নিজের ভুমিকার কথা উল্লেখ করে লিফলেট চাপিয়েছেন। শেখ শামিম বলেন, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচী তথা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ত রক্ষার লক্ষে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। সরকারের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামী হয়েছি। আন্দোলন চলাকালিন সময়ে আমার ঘরবাড়ী ভাংচুর ও ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। তথাপি দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে যাবতীয় কার্যক্রমে সক্রিয় আছি। আগামী দিনে দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে চাই। তাই সকলের দোয়া ও সমর্থন চাই। অপর সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলীও মামলা-হামলা উপেক্ষা করে বিগত দিনের ন্যায় আগামী দিনেও দলের জন্য যে কোন ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান।

এদিকে সিরাজ-জিয়া প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. সিরাজ আলী সরকার বলেন, আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করি। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকি। আগামীতে পৌর বিএনপির সকল নেতাকর্মীর মামলা হতে অব্যাহতির জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করবো। দলের জন্য ও নেতাকর্মীদের যে কোন ধরনের ত্যাগ শিকার করতে সর্বদা প্রস্তুত আছি। আমি আশা করি ১২টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মী তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে পৌর বিএনপির সভাপতি পদে নির্বাচিত করবেন।

এই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে হামলা-হামলার শিকার হয়েছি। তিনবার জেল খেটেছি। অতিতের ন্যায় আগামীতেও দলের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ত রক্ষার জন্য জেল-জুলুমকে উপেক্ষা করে দলে সক্রিয় কাজ করতে চাই। আশা করি দলীয় নেতাকর্মীরা দোয়া ও ভোট দিয়ে আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করবেন।

অপরদিকে শাহিন খান-খোকা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা ছাত্রদলের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশির দশকের তুখোর ছাত্রনেতা দীর্ঘদিনের আমেরিকা প্রবাসী মো. শাহিন খান বলেন, আমি বিদেশে থেকেও দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম এবং আগামীতেও থাকবো। বিগত দিনাজপুরের প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছি। আমেরিকাতে থাকা অবস্থায় আমি প্রবাসী বিএনপির সাথে যুক্ত ছিলাম। সেখানে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছি। সকলের দোয়ায় ও ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে দলকে এগিয়ে নিতে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো ইনশাল্লাহ।

ওই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. সামসুজ্জামান চৌধুরী খোকা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব করে যাচ্ছি। দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভুমিকা রেখেছি। আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা খেয়েছি ও জেল খেটেছি। দলের জন্য যে কোন ত্যাগ শিকার করতে প্রস্তুত আছি। আশা করবো এসব বিবেচনায় দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁদের মুল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করবেন।

ওই প্যানেলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী মো. মজিবর রহমান বলেন, আমি পৌর বিএনপির মধ্যে স্বচছতা আনতে চাই। নতুন করে পৌর বিএনপিকে সাজাতে চাই। নেতাকর্র্মীরা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করলে অতিতের ন্যায় আগামী দিনেও দলের জন্য সক্রিয় ভুমিকা পালন করে যাবো।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান সাজু বলেন, আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের অনুসারী। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে দলের জন্য মামলা ও হামলার শিকার হয়েছি। জেল খেটেছি। প্রতিপক্ষ আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর করে ৫ লক্ষাধিক টাকার সম্পদের ক্ষতিসাধন করেছে। আমার অতিতের ত্যাগের কথা বিবেচনা করে দলের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন সবার কাছে এই দাবী করি। এছাড়া মো. তরিকুল ইসলাম বুলু, ছাত্র নেতা মো. জহির খান টিটু সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুর পৌর বিএনপির ১২টি ওয়ার্ডে মোট ৯৬০ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৭১ জন নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ৯ জন উপদেষ্টা মিলে ৮০ জন ভোটার রয়েছেন। সে হিসেবে ১২টি ওয়ার্ডে ৯৬০ জন ভোটার রয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য