ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না দিয়ে ভর্তি খাতা থেকে নাম কেটে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে সেই রোগীর চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছেন তার বাবা।

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বোয়ালধার গ্রামের গরীব অসহায় আইজুল হক। নিজের ভিটেমাটি ছাড়া তার নেই কোন সম্পদ। তার একমাত্র ছেলে রব্বানী (১২) গত ৩ মাস ধরে চর্ম আক্রান্ত। চিকিৎসার খরচ যোগাতে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছেন তিনি।

বালিয়াডাঙ্গী বাজারে ভিক্ষা করার সময় তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৩ মাস ধরে সরকারি-বেসরকারী সকল দপ্তরে সাহায্যের জন্য ধরনা দিয়েও কোন ধরনের সহায়তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানান আইজুল হক।

আইজুল বলেন, গত দেড় মাস আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ: মান্নানের মাধ্যমে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তিও করিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৬ দিন হাসপাতালে অতিবাহিত করলেও কোন চিকিৎসা না প্রদান করেই হাসপাতাল থেকে নাম কেটে বের করে দেওয়া হয়েছে তার ছেলেকে।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা ডাক্তার রোগীদের ভিজিট করার সময় তিনি ডাক্তারকে তার ছেলেকে দেখে ঔষধপত্র দেওয়ার কথা বললে তার কথায় কর্ণপাত না করে একরকম গালিগালাজ করে। উল্টে আইজুল ও তার ছেলের বিরুদ্ধে হাসপাতালের আরএমও ডা: আবুল কাসেমের নিকট অভিযোগ তুললে ডা: আবুল কাসেম কোনকিছু না শুনেই গালিগালাজ দিয়ে তার ছেলের নাম ভর্তি রেজিষ্ট্রার হতে কেটে দিয়ে তাদেরকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালে দায়িত্বরত ডাক্তারতা নিয়মিত রোগীদের দেখাশুনা করেন না। ওয়ার্ড বয়ের পরিবর্তে স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে পরিচালনা করছেন জরুরী বিভাগ। হাসপাতালের নিজস্ব জেনারেটর থাকলেও সেটির ব্যবহার না করে রোগীদের অন্ধকারে রাত্রিযাপন করাচ্ছে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও গত এক বছর যাবত হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে নিয়েও বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। জেনারেটর ঠিক নেই। রোগীদের রাত্রিবেলা অন্ধকার দুর করতে সৌরবিদুতের বরাদ্দ চেয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট।

অন্যদিকে রোগীকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আইজুলের ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া ওই সময় আমরা এলাকায় বন্যা হওয়ার কারণে সবাই ব্যস্ত ছিলাম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য