মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঘনিমহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেমের কন্যা আয়েশা সিদ্দিাকা ও মোস্তফার কন্যা মসলিমা বেগম রুহিয়া উম্মুল মুমেনীন হযরত খাদিজাতুল কোবরা বালিকা দাখিল মাদরাসায় ৯ম শ্রেনীতে পড়াশুনা করে। পড়া না পারায় এবার মহিলা মাদরাসার ৭/৮জন শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছে ওই মাদরাসার এক শিক্ষিকা। শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া উম্মুল মুমেনীন হযরত খাদিজাতুল কোবরা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষিকা কামরুন নাহার ৪র্থ পিরিয়ডে ৯ম শ্রেনীর ক্লাসে যান এবং শিক্ষার্থীদের কুরআন মজিদ ক্লাস নেওয়ার সময় ৭/৮ জন শিক্ষার্থী পড়া দিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষিকা কামরুন নাহার কাঠের স্কেল দিয়ে একে একে ৭জন শিক্ষার্থীকে এলোপাথারী মারপিট করেন।আয়েশা সিদ্দিাকা মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি করলেও তাকে নিস্তার দেন নি ওই শিক্ষিকা।শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা ও মসলিমা আকতার আরো অভিযোগ করে বলেন,ম্যাডামের ক্লাসে পড়া দিতে না পারায় তিনি আমাদের পিতামাতা ও অভিভাবকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কাঠের স্কেল দিয়ে পিটিয়ে জখম করেন।

জানতে পেয়ে মোস্তফা নামে একজন অভিভাবক তাৎক্ষনিকভাবে মাদ্রাসায় গিয়ে প্রতিবাদ করলেও সুপার দবিরুল ইসলাম ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিক্ষুদ্ধ অভিভাবকদের ফিরিয়ে দেন। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তারা আগামীকাল রোববার সকালে ওই মাদরাসা ঘেরাও করবেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে মাদরাসা সুপার দবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কোন শিক্ষার্থীকে মারপিট করা যাবেনা এ বিষয়টি প্রত্যেক শিক্ষিকাকে জানানো হয়েছে।তার পরও কোন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধোর করলে তার দায় দায়িত্ব তিনি বহন করবেন।

শিক্ষার্থীকে নির্যাতনকারী শিক্ষিকা কামরুন নাহার জানান সোহাগ করবেন যিনি শাসন করা তাকেই সাজে। তিনি যুক্তি খন্ডন করে বলেন,ওইসব শিক্ষার্থীকে ৩দিন পূর্বে যে পড়া দেওয়া হয়েছিল সেটা তারা ৩দিন পরেও পড়া দিতে না পারায় আমি কয়েকজনকে স্কেল দিয়ে পিটাই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য