ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ উৎপাদন শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মাথায়, আবারো কার্য্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পে।

আজ শনিবার সকালে, খনিটির প্রকল্প পরিচালকের অসহযোগীতার অভিযোগ এনে, খনিটির প্রধান ফটকে নোটিশ দিয়ে, প্রকল্প পরিচালক এর অপসারন না হওয়ায় পর্যন্ত, খনির সকল কার্য্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করেছে, খনিটির ঠিকাদী প্রতিষ্ঠান জিটিসি।

জিটিসি বলছেন চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালকের অসহযোগীতার কারনে চুক্তির সত্ব বাস্তবায়ন করা সম্ভাব হচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে সকল কার্য্যক্রম বন্ধ করেছে, জিটিসির রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ। জিটিসি’র অভিযোগ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে এই পর্যন্ত প্রেট্রোবাংলা ও মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর কর্তৃপক্ষের নিকট ৬ বার আবেদন করেও কোন সাড়া মিলেনাই।

তবে মধ্যপাড়া কর্তৃপক্ষ বলছেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মঞ্জুরুল কাদির এর নেতৃত্বে চার সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে, কমিটি প্রতিবেদন দাখির করলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশরী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ, মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাছান ও পেট্রোবাংলার একজন মহাব্যবস্থাপক।

জিটিসি বলছেন চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ (এমজিএমসিএল) এর প্রকল্প পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার টু কন্ট্রাক্ট)মীর আব্দুল হান্নান মহাব্যবস্থাপক(অপরেশন) দায়িত্বহীন ভাবে খনি পরিচালনার কাজে প্রয়োজনীয় অতি জরুরী কাগজপত্র ও খনি উন্নায়নের কাজে প্রয়োজনীয় নতুন যন্ত্রপাতি আমদানী করার অনুমোদন প্রক্রিয়া, বছরের পর বছর ধরে আটকিয়ে রেখে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসিকে খনি পরিচালনা করতে দেয়নি।

যার ফলস্বরুপ খনিটির কার্য্যক্রম দুই বছর পর্যন্ত বন্ধ থাকে। জিটিসি বলেন এর পরেও ঠিকাদী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে খনিজ যন্ত্রপাতি আমদানী করে মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক এখন পর্যন্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কার্য্যক্রমকে সহযোগীতা করছে না বরং তিনি পদে পদে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে বাধা সৃষ্টি করছে, সুধু তাই নয়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পাওনা ৩৫ কোটি টাকার বীলটি আটকিয়ে রেখেছে, যেহেতু প্রকল্প পরিচালক খনিটির কার্য্যক্রম পরিচালনা করতে ঠিকারী প্রতিষ্ঠানকে সহযোগীতার বদলে অসহযোগীতা করছে, সেহেতু খনিটির কার্য্যক্রম বন্ধ করে দেয়া ছাড়া, ঠিকাদী প্রতিষ্ঠানের নিকট আর কোন উপায় ছিলনা, তাই খনিটির কায্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।

এদিকে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর মহব্যবস্থাপক (অপরেশন) ও প্রকল্প পরিচালক মীর আব্দুল হান্নান এর সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খনিটি পরিচালিত হয় খনির পরিচালনা পর্ষদ এর মাধ্যমে এখানে আমার একার কিছু করার নাই। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কেন আমাকে দায়ি করছে তা আমার জানা নাই, তিনি অভিযোগ করে বলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কয়েক দফায় তাদের সত্ব ভঙ্গ করেছে।

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাছান বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের থিত্তিতে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই কমিটির প্রতিবেদন দিলেই , সকল কার্য্যক্রম শুরু করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে হঠাৎকরে খনিটির সকল কার্য্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে, খনিতে কর্মরত সাড়ে আট’শ কর্মকর্তা-কর্মচারী। গত পরশু যারা কর্মব্যস্থ ছিল, গতকাল তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া খনিটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার লোকশান হচ্ছে সরকারের।

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পটিতে উৎপাদন যন্ত্রের অভাবে গত ২০১৫ সালে পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, এর পর দিঘৃদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর চলতি মাস থেকে পাথর উৎপাদন শুরু হয়। পাথর উৎপাদন শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মাথায়, আজ শনিবার থেকে আবারো পাথর উৎপাদন বন্ধ ঘোষনা করা হল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য