আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় এবছর ৬৪টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার বেশির ভাগ পূজা মন্ডপ গুলোতে ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে এখন চলছে প্রতিমা রং করাসহ সাজানোর শেষ মূহুর্তের কারুকাজ। শিল্পীর হাতে রং-তুলির আচর। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে বাঁশ-কাঠ, খড়-সুতলি, আর কাদামাটি দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। পূজার আর মাত্র কয়েক একদিন বাকি থাকায় এখন দিন-রাত অনেকটা ব্যস্তসময় কাটছে প্রতিমা শিল্পীদের।

প্রায় প্রতিটি পূজা মন্ডপ তৈরী করা হয়েছে ঢেউটিনের ছাউনি ও ঘেরা দিয়ে। ভেতরে নানা রংযের কাপড়ের ডেকোরেশন। তার মাঝখানে প্রতিমা বসানোর আসন সাজানো হচ্ছে। ষষ্ঠমীর মধ্যদিয়ে বিশ্ব শান্তির কল্যাণে সনাতন হিন্দুধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজায় দেবীকে আসনে রাখা হবে বলে জানায় তারা। প্রতিমা কারিগর শ্রী আনন্দ কুমার মালাকার ও শ্রী খোকন চন্দ্র মালাকার জানায়, অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে প্রতিমাগুলো তৈরী করা হয়েছে এবং এখন রং ও সাজানোর কাজ করছেন তারা।

দেশী-বিদেশী রং তুলির বর্ণিল রংয়ের সাথে জামা কাপড় দেবীর গায়ে পড়িয়ে দিয়ে গলায় ও হাতে দেয়া হবে দামী গহনা। লাগানো হচ্ছে নানা রংয়ের বিদ্যুতিক বাতি। শিল্পী প্রদীপ মালাকার নামের একজন প্রতিমা কারিগর জানান, মাসখানেক আগে থেকে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করেছেন তারা। এবছর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আর ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ঘনঘন বৃষ্টি হওয়ায় প্রতিমা তৈরীতে অনেকটা সমস্যা হয়েছে।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ৬৪টি মন্ডপে আনন্দ ঘন উৎসবে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দিলিপ চন্দ্র সাহা ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার মিত্র জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপুজা সুষ্ঠাভাবে উদ্যাপনের জন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তারা আরো বলেন পূজার সময় উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ সার্বক্ষনিক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন জানান, সনাতন হিন্দুধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা যেন নির্বিঘেœ উদ্যাপন করতে পারেন সেজন্য প্রতিটি পূজামন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক টিম নিয়োজিত রয়েছে। থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম বলেন, প্রতি বছরের মত এবছরও শারদীয় দুর্গোৎসব সকল ক্রিয়াকর্ম যেন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয় সেই দিক থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ছাড়াও আনসার ভিডিপি সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য