চিরিরবন্দরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা আমন চাষে ঘুরে দাড়াচ্ছে। তারা দিনরাত গা-গতরে খেটে চেষ্টা করছে ঘুরে দাড়ানোর। উপজেলা কৃষি অফিসের সকল কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে। বাতিল করা হয়েছে অফিসের সকলের ছুটি।

বৃহস্পতিবার সরজমিনে উপজেলার গমিরা, কৃষ্ণপুর, গোবিন্দপুর, অমরপুর, কারেঙ্গাতলি, মথুরাপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সম্প্রতিকালের বন্যায় উপজেলার আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া জমিতে কৃষি অফিসের পরামর্শে আবারও ধান রোপন করেছে কৃষকরা। বন্যা পরবর্তি সময়ে কঠোর পরিশ্রম করছে, যাতে বন্যায় ক্ষতি হওয়ার পর তেমন প্রভাব না পড়ে। প্রায় জমিতে দেখা গেছে কৃষকরা আমন ক্ষেত নিড়ানিতে ব্যস্ত। বেশিরভাগ জমিতে জিরা ধানের চারা লাগানোয় কাঠা প্রতি আধা সের করে ইউরিয়া সার ছিটাচ্ছেন কৃষকরা।

বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়া পুনট্টি ইউনিয়নের তুলশিপুর গ্রামের কৃষক হবিবর রহমান জানান তার জমির ধান বন্যায় নষ্ট হয়ে যায়। বন্যা পানি নেমে যাওয়ার পর তিনি দৈনিক প্রথম আলো কল্যাণ ট্রাষ্টের মাধ্যমে চারা সংগ্রহ করে আবার জমি রোপন করেন। আমন রোপা লাগানোর ক্ষেত্রে দিন রাত পরিশ্রম করছেন যাতে ভাল ফসল তুলতে পারেন। তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিসের লোকজন জমি বাড়ীতে আসছে এবং সহযোগিতা করেছে। এখন নিড়ানী ও সারের প্রয়োজন। এক্ষেত্রেও টাকার প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, আমাদের জীবিকা নির্বাহের জন্যই আবাদ করতে হবে। আবাদ না করলে খাবো কি ? চলবো কিভাবে?

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, বন্যায় আক্রান্ত হয় অন্তত ১৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমি। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয় ৯ হাজার ৮৭০ হেক্টর আমন ক্ষেত। ২০০ হেক্টর জমির বীজতলা এবং ৫ হেক্টর জমির সবজিক্ষেত ক্ষতির শিকার হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি পুরনের স্বার্থে অত্রাফিসের সকল কর্মকর্তাসহ উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ প্রদান করা ও সহযোগিতা করতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই অফিসের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফনিভূষন রায়, দীনেশ চন্দ্র রায়সহ কয়েকজন জানান, সামনে পুজা থাকলেও দেশের ও কৃষকদের স্বার্থে তারা মাঠে থাকবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য