চিরিরবন্দরে যৌতুকের কারণে পারিবারিক সহিংসতার জের ধরে দু’ পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের মত্তমন্ডল পশ্চিম পাড়ায়।

স্থানীয় প্রতিবেশি জানান, উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুকদেবপুর গ্রামের ধান ব্যবসায়ী ময়ছার আলীর মেয়ে শিরিন আকতারের সাথে মত্তমন্ডল পশ্চিম পাড়ার কুতুব উদ্দিনের পুত্র হায়দার আলীর প্রায় সাড়ে ৫ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের একটি ৪ বছর বয়সী স্নেহা নামে কন্যাসন্তান রয়েছে। ওই বাড়িতে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টায় মত্তমন্ডল পশ্চিম পাড়ার কুতুব উদ্দিনের পুত্র হায়দার আলী তার স্ত্রী শিরিন আকতার (২৩) কে বেধড়ক মারপিট করে। এ সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ১০ টায় পিতাসহ পিতার বাড়ির ৩ জন লোক এসে আহত রক্তাক্ত মেয়েকে স্থানীয় চিরিরবন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে চাইলে উভয় পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। এতে হায়দার আলীসহ দু পক্ষের লোকজন আহত হয়।

আহত শিরিনকে আত্মীয়স্বজন দ্রুত চিরিরবন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরপর মেয়ের পিতাসহ অন্যান্য লোকজন চলে যাওয়ার সময় ছেলে পক্ষের লোকজন মেয়ের বাবা ময়ছার আলী, ভাই নওশাদসহ অপর একজনকে আটক করে রাখলে রাত আনুমানিক ১ টায় চিরিরবন্দর থানার এএসআই নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

আত্মীয়স্বজন আহত ময়ছার আলী (৪৭), সাখাওয়াত হোসেন (২৫),নওশাদ আলী (২০) কে চিরিরবন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অপরদিকে ছেলে পক্ষের লোকজন আহত হায়দার আলী, তার মা হাজেরা বেগমকে একই হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

শুক্রবার সকাল ৮ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত ময়ছার আলী বলেন, মারধরের কারণে বিয়ের পর ধাপে ধাপে জামাইকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়েছি। প্রায়ই টাকার জন্য মেয়েটাকে মারধর করে।

এ ঘটনায় শিরিন আকতার জানায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার স্বামী তাকে মারধর করত। ওই সময় তার স্বামী আরো টাকা আনার জন্য চাপ দিলে আমি রাজী না হওয়াতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইলে বাবার বাড়িতে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্বশুর, শ্বাশুরী, ননদ ও স্বামী আমাকে মারধর করে জখম করে। এরপর আমি বাবাকে জানালে তারা এসে আমাকে নিয়ে যেতে চাইলে আমার শ্বশুর, শ্বাশুরী, ননদ ও স্বামী বাধা দেয়।

প্রতিবেশি রোজিনা বেগম জানায়, বিয়ের পর থেকেই স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া লেগেই থাকত। মারধরের ঘন্টাখানেক পর মেয়ের বাবাসহ কয়েকজন এসে ছেলেকে মারধর করে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার সময় ছেলে পক্ষের লোকজন মেয়ের বাবা,ভাইসহ ৩ জনকে আটক করে রাখে। পরে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়। চিরিরবন্দর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ হারেসুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য